পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বীকার কবার মত ধৃষ্টতা তার নেই। কাজলবাবু আজ অনেক উপরতলাব মানুষ। সাবিত্রীকে সে চেনে না। ওর সঙ্গে সেই পরিচয়ের কথা শুনে এরা হাসবে ভাববো মিথ্যাবাদী বলে। সাবিত্রী কোন গানের স্কুলের সহকারিণী মাত্র। আজ এই তার পরিচয় । সাবিত্রী সুলেখাদির কথায় মাথা নাড়ে। --না। এমনি শুনে শুনে গাইতাম । হঠাৎ কার ভরটি গলাব শব্দে চমকে ওঠে সাবিত্রী, সামনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে একটি তরুণ। বলিষ্ঠ চেহারা, পরণে গরদের পাঞ্জাবী আর পায়জামা। বড় দিদিমণিও এসেছেন ওর সামনে। কাজল ঢুকেছে। সে বলে চলেছে স্কুলের অধ্যক্ষাকে। —আর বলবেন না ? গাড়ি চলবারও পথ নেই কলকাতা শহরে। সব জাম। একটা ছবির প্লেব্যাক-এর গান রেকর্ডিং ছিল টালিগঞ্জে। টেক করতে তো ঘোমে নেয়ে ওঠার উপক্রম। তিনখানা গান রেকর্ড করে বের হলাম, কিন্তু কিসের মিছিল চলেছে। পথ বন্ধ। জট পাকিয়ে গেছে সব। উঃ--সেই বৃহ ভেদ করে এলাম এতক্ষণে। অনেক দেবী হয়ে গেছে। —কি আর করবেন! অধ্যক্ষা সরল্যাদি এখানে অন্য মানুষ। বুলডগের মত ভারী মুখখানায় হাসির আভাস জাগে। সাবিত্রী জানে কাজলবাবুর নামেই স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। অনেক ধরে করে ওকে এখানে এনেছে সরল্যাদি। অন্যদের ত্রুটি হলে ওর মুখ গম্ভীর হয়ে ওঠে। সরল্যাদি কড়া ধাঁচের মেয়ে। কোন গলতি সে সহ্য করে না। কারো স্কুলে আসতে দেরী হলে রেগে ওঠে। এখানে সরল্যাদি বলে কাজলকে আপ্যায়নের সুরে। —একটু কফি আনাই? না কোকোকোলা-সাবিত্ৰী! শোনে--- কাজলবাবু বলেন,--তাহলে কফিই। দেখি, ওদিকের ক্লাশে যেতে হবে। সাবিত্রী। থমকে দাঁড়িয়েছে। একটি মুহূর্ত। সরল্যাদি ওকে দেখে ডাকিল। --সাবিত্রী, নীচে দারোয়ানকে বলো কফির জন্য। যাও। সাবিত্রী বাধ্য হয়ে সামনে এসে পয়সাগুলো নিলো। একটি মুহূর্ত। মনে হয় সাবিত্রীর ৩ার হাত থেকে পয়সাগুলো পড়ে যাবে। কাজলবাবুও দেখছে তাকে। ওর চোখ দুটাে এক নিমেযের জন্য চকচাকিয়ে উঠে। সাবিত্রীর হাত কাঁপছে। মনে হয় কাজলবাবু এখুনিই ডাকবে তাকে ! তাদের সেই NTFS