পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তারা বলে-বাতিল বুড়ো-হাবড়াদের এই দয়া দেখানো কেন ? বাসস্তবাবু উঠে দাঁড়ালেন। গোটা গোটা অক্ষরে লেখা দরখাস্তখানা টেবিলে রাখা, ওতে লেখা আছে তার অতীতের সংগ্রামী জীবনের কাহিনী । কবে কি বীরত্ব দেখিয়েছিলেন, কতো দিন ইংরেজের জেলে ছিলেন তারই রোজমনামচা । আজি সব ব্যঙ্গে পবিণত হয়েছে। ——বাবা, বাসস্তবাবু ফিরে চাইলেন। সাবিত্রী একটা হাতল-ভাঙা কাপে চা নিয়ে ঢুকেছে৷ ফিকে বিবৰ্ণ একটু তরল পানীয়। বসন্তবাবু জানেন ওপাশের ঘরের মাসীমার কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে এনেছে বোধহয় । তাই বলেন কুণ্ঠার সুরে। ? ہم یہb} (p }گ{{>}}<\--بس۔ বাসস্তবাবু মেয়ের দিকে চেয়ে থাকেন। মেয়েটা যেন দেখতে দেখতে বেড়ে উঠেছে এই অভাবের সংসারে। সবে ফ্রক ছেড়ে শাড়ি ধরেছে। স্কুলের পড়াশোনায় ভালো। বড়ছেলে অমৃতও এবার বি-কম পাশ করেছে। অনার্স নিয়ে। বসন্তবাবু বুঝতে পারেন না, এত কষ্টের মধ্যে ওরা বেঁচে আছে, দিন কাটাচ্ছে কি ভাবে। —চা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। খেয়ে নাও বাবা। কি সব ভাবছিলেন। তিনি, অর্থহীন ভাবনা। ওর কথায় বসস্তবাবুর খেয়াল হয়,--এই নিচ্ছি মা। ঘরের দরজাটা খােলাই ছিল, বাইরে থেকে ঢুকছে অশোক। ছিপছিপে লম্বা ঢ়েহারা, চুলগুলো উস্কো খুস্কো। পরণে পায়জামা আর পাঞ্জাবী। ওটার দিকেও অশোকের বিশেষ খেয়াল নেই, হাওয়াই চটিটা দেখে বোঝা যায় দৈনিক ওর হাঁটাচলার খতিয়ান । জীর্ণ হয়ে এসেছে সেটা। ওর মুখ-চোখে একটা কাঠিন্য ফুটে ওঠে। অশোক দাঁড়ালো একটু। বসস্তবাবু ছোটাে ছেলের দিকে চেয়ে থাকেন। ওর হাতে কয়েকখানা কি কাগজপত্র আর হয়তো পোস্টার, গোলমত করে গোটানো। ছেলেকে দেখে বসন্তবাবু বলেন।