পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাবিত্রীর গুনগুন সুর শোনা যায়। সুধাময়ী নিশ্চিন্ত মনে রাঁধছে। অমৃত তবু কিছু বেশী। টুইশানি করে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পেরেছে। টাকাও কিছু আসছে। তিনি এই কাজ ছেড়ে দিলে সব আবার কি অভাবের ছায়ায় কালো হয়ে যাবে। সুধাময়ী চায়ের কাপটা রেখে গেছে কখন, খয়াল নেই বসন্তবাবুর। চ’টা জুড়িয়ে Cht(b ! মনের অতলের একটা জড়তা ভয়ের রূপ নিয়ে তার সব চেতনাকে আচ্ছন্ন করে তুলেছে। বাসস্তবাবুর কাছে এই ভয়টা যেন কালো ছায়ার মত ঘনিয়ে আসছে। মনে হয় পটলের ওই কারখানা-টারখানা একটা বাইরের আচরণ মাত্র। সেখানেও নানা গোলমাল রয়ে গেছে। বসস্তবাবু কয়েকমাসের মধ্যে তা টের পেয়েছেন। পারমিট আসে। সেই পারমিটের মালপত্রই বেচে দেয় তারা, আর তাতে যা লাভ হয় বিনা মূলধনে কারখানায় মাল তৈরী করেও তা হয় না। আবার অন্ধকার পথে সেই মালই দ্বিগুণ দামে কেনা হয়ে কারখানার খাতায় জমা হয়। সব জেনে তাই পটলকে সেদিন বসন্তবাবু বলেছিলেন—এটা যে ঘোরতর অন্যায় বাবাজী। বেআইনী কাজ। পটল ওর দিকে চেয়ে থাকে তীক্ষ দৃষ্টিতে। দীঘির পাড়ের মিত্তির বাড়ির হাংলা ছেলেটার লোভ-লালসা আজ আকাশ ছয়েছে। পটল বলে ওঠে। —ওসব কথা। আপনি ভাববেন না। যা করতে বলা হচ্ছে তাই করবেন। হ্যা--- আপনার এ মাসের রাহাখার্চ বাবদ একশো টাকা আগাম রেখে দেবেন। ক্যাশে বলা আছে। যান। ওগুলো চালান করে নেবেন। আর সন্ধ্যায় গঙ্গার ধারে যাবেন গাড়ি নিয়ে—একজন মাছের কারবারী কিছু ইলিশ মাছ দেবে, নিয়ে এখানে দিয়ে যাবেন। বসন্তবাবু মাছও আনেন প্ৰায়। এত আক্রগণ্ডার দিনে পটল পাঁচ-সাতটা করে ইলিশ মাছ আনে। আর নীেকেও সব যেন চেনা। তার গাড়ি দেখেই তারা এগিয়ে এসে আপনা থেকেই তুলে দেয়। বসস্তবাবু এবার ব্যাপারটাকে অন্য চোখে দেখেন। তাই ভয় হয়। তিনি বলেন । —-মাছটা ড্রাইভারই আনতে পারবে। ওর তো চেনা। পটল বলে । Գ Տ