পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


--সকালবেলাতেই বের হয়েছিলি ? সামনে পরীক্ষণ । অশোকের মুখে-চোখে একটা বেপরোয়া ভাব এখন হতেই ফুটে উঠেছে। বাবার কথায় অশোক জবাব দেয়। অবজ্ঞার তীক্ষ্মতাভিরা স্বরে। --পরীক্ষণ হবে। কিনা ঠিকই নেই। --তাই ঘুরে বেড়াবি? ওই সব বাজে ঝামেলায় থাকিবি নিজের ভবিষ্যৎ-এর কথা ভুলে ? বসন্তবাবু ছেলেকে কড়া স্বরেই ধমক দিতে চান। ওর ওই ঔদ্ধত্যে। অশোক কথার জবাব দিল না, বাবার দিকে চাইল। বাবার অক্ষম এই আস্ফালনের কোনো দামই দেয় না। অশোক । টেবিলের উপর দেখেছে ওই দরখাস্তখানা। অতীতের সেই আত্মত্যাগের মূল্য পাওয়া নিয়ে আজও দর-কষাকষি করছে ভিক্ষেপাত্ৰ হাতে নিয়ে, এটাই অশোকের কাছে সত্যি বলে মনে হয়েছে। অশোক জবাব দেয়। --ভাবিষ্যৎ আমাদের অন্ধকারে ঢাকা, সেখানে কোনো আলো নেই। আর কাজের কথা বলছো ? ওটার ডেফিনেশন সকলের কাছে সমান নয়। তুমিও তো একদিন নিজের ভবিষ্যৎ-এর কথা ভুলেই বিপ্লবের পথে নেমেছিলে। তখন তো ভাবে নি। বাসস্তবাবু চমকে ওঠেন। ওর কথায়। ছেলের দিকে চাইলেন। তার পরবর্তী জীবনের ইতিহাস নীরব যন্ত্রণায় বিবৰ্ণ, তাই অশোক যেন তার সব চেষ্টা আর নীতিকেই ব্যঙ্গ করছে, এই কথা ভেবে অসহায় কণ্ঠে প্ৰতিবাদ করেন। —এসব কি বলছিল তুই ? সাবিত্রী বাবাকে দেখেছে—ও যেন অশোকের কথায় আর্তনাদ করে উঠেছে কি যন্ত্রণায়। তাই সাবিত্রী বলে। —তুই যা না ছোড়দা । দিনরাত তোদের ওই আজে-বাজে তাক্কো। তোরাই সব বুঝিাস। তোদের মতই সবচেয়ে সত্য, আর সবকিছু মিথ্যে। তাই নিয়ে গলা ফাটাতে তোদের লজা করে না ? সবাতাতেই গা জোয়ারি। অশোক সাবিত্রীর কথায় হাসছে।