পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—কি সব গোলমাল বেধেছে মিটিং-প্রসেশন নিয়ে। লোকজন ছুটােছুটি করছে। সুধাময়ী জ্বালােভরা সুরে বলে।

  • -ওই নিয়েই থাকবে ওরা? এদিকে সাধারণ মানুষের যে দম ফুরিয়ে আসছে

এটা তাদের সকলেরই প্রশ্ন। অমৃতও ভেবেছে সেটা। দরজায় দরজায় ঘুরছে। চাকরীর সন্ধানে। দু-একটা ইন্টারভিউও পেয়েছিল। হাজির হয়ে এসেছে ওই পর্যন্ত। কিছু হয় নি। এক জায়গাতে তো সোজাসুজি প্রশ্ন করেছিল তাকে কোনো কর্তব্যক্তি। — কোন দলের হয়ে রাজনীতি করেন? অর্থাৎ ওটাও তীদের জানা দরকার। অমৃত জানিয়েছিল। --ওসব করি না। ভদ্রলোক একটু হতাশ হয়ে শুধোন। --কেন ? আজকের দিনে রাজনীতি এড়িয়ে থাকা যায় না। তাছাড়া ইয়ং ম্যান, ওসব তো করে থাকে । অমৃত ওর দিকে চাইল। মনে হয় ওঁরা অমৃতের ওই জবাবে খুশী হন নি, ওঁদের মনে হয়েছে অমৃত মিথ্যা কথা বলছে। কিন্তু অমৃতের জীবনের জ্বালাটাকে ওরা বোঝেন নি, তাই ভাবতে পারেন নি যে অমৃতের ওই কথা কতো সত্যি। অমৃত দেখেছে তার আশেপাশের মানুষগুলোকে। তার বাবার সেই বলিষ্ঠ চরিত্রেরও অপমৃত্যু ঘটেছে। অতীতের সেদিনের ত্যাগ-এর কোন মর্যাদাও আজ নেই। দেখেছে। অশোককে। ভালো ছাত্র ছিল। পড়াশোনা করলে ফাস্ট ক্লাশ অনার্স পেতো, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ক্লাশে ভর্তি হয়ে এতোদিন এম-এ পাশ করে একটা ভালো কাজও পেতো। কিন্তু তা হয় নি। ওই বিষে তার সব গেছে। সংসারের প্রতি অসহায় মা-বাবার জন্যও তার বিন্দুমাত্র কর্তব্য নেই। ও যেন একটা নিষ্ঠুর হৃদয়হীন সত্তায় পরিণত হয়েছে ওই রাজনীতির আবর্তে পড়ে। অমৃত তাই ওই পথটাকে মেনে নিতে পারে নি। ওই ভদ্রলোকের কথায় অমৃত জবাব দেয় } brミ