পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—-এ বিষয়ে আমি বার্ণাড শ’র সঙ্গে একমত স্যার। ভদ্রলোক ওর দিকে চাইলেন। মনে হয় শ’-এর নাম এই প্রথম শুনলেন তিনি। অমৃত বলে। -Röf 3Gificer, Politics is the last resort of the Scoundrals. ভদ্রলোকের মুখটা গভীর হয়ে যায়। অমৃত সেখানে চাকরী পায় নি। অবশ্য না পেয়ে ভালেই হয়েছে। ভদ্রলোকেরও বর্তমানে চাকরী নেই, তাদের কারখানাও বন্ধ বেশ কিছুদিন থেকে। অমৃত শাস্তিতে খেটে খুটে দুমুটাে অন্ন জোগাড় করে বাবা-মা-বোনকে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল ওই তার অপরাধ। তাই আজও তার কোনো গতি হয় নি। সুধাময়ী কান পেতে ওই গোলমাল শুনছে। দু-একটা বোমার শব্দ ওঠে। ওপাশের ফ্যাক্টরীর গেটের ওদিক থেকে সেই গুরুগম্ভীর আওয়াজটা আসছে। অন্ধকারে কেঁপে ওঠে আকাশ বাতাস। সুধাময়ী বলে। —সেই হতচ্ছাড়াকে দেখেছিস ওখানে ? কোথায় গেল সেটা ? মায়ের মন তবু কঁদে অশোকের জন্যে। অমৃত ভিড় আর গোলমাল দেখে সরে এসেছে। তাই জানায় মায়ের প্রশ্নে। —না। ওখানে দাঁড়াই নি। অন্ধকারে আতঙ্কিত কটি প্রাণী কি ভাবছে। বাড়ির আলো নেভানো। চিৎকার উঠছে। ওদিকের মাঠে, রাস্তায়। সাবিত্রী ও জেগে উঠেছে। ঘুম তার আসে নি। তার মনে অনেক চিন্তার আনাগোনা। এর আগে সাবিত্রীর জীবনে কোন জটিলতা ছিল না। অভাব ছিল সত্যি, সংসারের অভাবের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রশ্নটাই বড় হয়ে উঠেছিল--তাই জীবনের অন্য যন্ত্রণা, বঞ্চনাগুলোকে বড় করে দেখে নি। আজ সংসারের অভাবের সেই জ্বালাটা কমেছে; বাবাও বেশ টাকা-পয়সা আনছেন। তাছাড়া সাবিত্রী নিজেও এখন সুলেখাদির ওখানে থেকে গান শিখে কাজ করে যা রোজাকার করছে সেটা স্কুলের চাকরীর থেকেও বেশী। সাবিত্রীর মনে কি আশার আশ্বাস জেগেছে। নিজের পথ সে করে নেবে। ক্রমশঃ মনে হয় জীবনটা সহজ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। আবার। bペ)