পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আর একজনের স্বপ্ন তার মনের নিভৃতে এখনও খানিক সাড়া তোলে। সাবিত্রী যেন অমনি আবেশময় কোন মিষ্টি স্বপ্ন দেখছিল। হঠাৎ প্রচন্ড বিস্ফোরণের শব্দে চমকে ওঠে সাবিত্রী। পর পর কয়েকটা বোমা ফাটল ওদিকের রাস্তার মোড়ে ফ্যাক্টরীর গেটে, কাদের আর্তনাদ-কলরব-শোনা | | সাবিত্রী অজানা ভয়ে ওঘর থেকে এদিকে এসে মা বাবা দাদাকে দেখে চাইল। জানলাটা খোলা, বাইরে কোথাও এতটুকু আলো নেই। গলির সব বাড়ির মানুষগুলো আলো নিভিয়ে কি ভয়ে মুখ বুজে চুপ করে আছে। গলির পথ-এর সব আলোগুলো নেভানো। তখনও চীৎকার আর দৌড়াদৌড়ির শব্দ শোনা যায়। একদল পশু কি হিংস্রতা নিয়ে আবার যেন আদিম অন্ধকারের বুকে তাদের রাজ্য গড়ে তুলতে চায়। সুধাময়ী বলে ভীত আর্তকণ্ঠে। —জানােলাটা বন্ধ করে দে অমৃত। থেকে থেকে বোমা ফাটার শব্দ ওঠে বু-ম-ম-বু-ম-ম। বসন্তবাবু নির্বািক হয়ে গেছেন। মনে হয় এ যেন চির অন্ধকারের রাত্রি, এই তমসার বুকে কোন যাদবকুল আজ কলির শেষ প্রাস্তে এসে আবার একটি বেদনার্ত যুগাবসানের নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলা শুরু করছে এই আত্মহননের মধ্যে। সেই গোলমাল কমে আসছে, বোধহয় আক্রমণকারীর দল কাজ সেরে লুকিয়ে পড়েছে। চাপা ফিস্ ফিস শব্দ-পায়ের সাড়াগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে। কড়াটা নড়ে ওঠে চেনা ছন্দে। তবে খুব সাবধানে ওই শব্দটা উঠছে তা মনে হয়। সুধাময়ী উৎকৰ্ণ হয়ে ওঠে। II. বলে সে-অশোক! অমৃত জানালার ফাঁক দিয়ে কি দেখবার চেষ্টা করে-কার গলার শব্দ শোনা যায়। সুধাময়ীই গিয়ে দরজা খুললো সাবধানে। খোলা দরজার ফাঁক দিয়ে অশোক ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে দাঁড়াল। তখনও br8