পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


--কি হবে ? বাসস্তবাবু কি ভাবছেন। স্ত্রীর কথায় কি বেদনার্ত স্বরে বলেন। —ওর জন্য দুঃখ করো না বড় বীে। সংসারের ও কেউ নয়। কারোও জন্য ও ভাবে না। ওরা বিধাতার কোন বিচিত্র সৃষ্টি। হয়তো হাউই-এর মত জুলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে ওরা। এই সর্বনাশের হাত থেকে নিস্কৃতির পথ আমারও জানা নেই। সংসারের কটি প্রাণী কি নির্বক ভাষাহীন হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। সাবিত্রী। তবু এই অন্ধকার জগতে বাঁচার সাধনা করে চলেছে। অশোকের সেই চলে যাবার পর এ বাড়িতে একটা স্তব্ধতা নেমেছে। বাবাকে দেখেছে সাবিত্রী যেন বাজপাড়া একটা মানুষ। তবু কাজ করে চলেছে। মাও চুপ করে গেছে। সাবিত্রীর মনে হয়। এভাবে বঁচা যায় না। তাই বাইরের জীবনটাকে সে আরও নিবিড় করে পেতে চেয়েছে সবকিছু ভোলার এই যেন একমাত্র পথ। সাবিত্রীও কমাসে সুলেখাদির সংসারের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। সুলেখাদির মাকেও ভালো লাগে তার। তার মায়ের মত অভাবের জ্বালায় পুড়ে পুড়ে আংরা হয়ে যায় fro | সুলেখাদির বাবা ছিলেন পদস্থ কর্মচারী। তিনিই পূর্ণদাস রোডের বাড়িটা তৈরী করেন। তার দুটাে ফ্ল্যাট থেকে যা ভাড়া আসে তাতেই ওদের দুটি প্রাণীর সংসার ভালোভাবে চলে যায়। তাছাড়া ওর বাবার জমানো টাকার অঙ্কটাও কম নয়, সেটা অপ্রয়োজনীয় বন্ধুর মত ব্যাঙ্কে পড়ে আছে। সুলেখাদি যা রোজকার করেন। গান গেয়ে সেটাও অনেক। স্বচ্ছল সংসার। সাবিত্রীর এখানে করার বিশেষ কিছুই নেই। গান গাইবার অবকাশ পায় অনেক। ঝি-চাকর আছে, তাদের তদারক করতে হয়। মাঝে মাঝে দু-এক পদ রান্না করে কোন কোন দিন, না হয় মাসীমার সঙ্গে গল্প করে, কাগজ পড়ে আর বাকী সময়টুকু গান নিয়েই থাকে। ক মাসে সাবিত্রীর দেহমানে ফুটে উঠেছে সেই নিশ্চিস্ততার ছাপ, তিলজলার আধা বস্তির মালিন্য ওতে নেই। brbr