পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নেহাৎ যেন দয়া করেই অশোক বৃদ্ধকে নিৰ্ম্মতি দিয়ে ভিতরে চলে গিয়ে হাঁক পাড়ে। —ম, ভাত হয়েছে? কুইক, এখুনি আবার বের হতে হবে। জরুরী কাজ আছে। সুধাময়ী বলে-ফিরলি এতক্ষণে ? বাড়িতে দেখা মেলে শুধু খাবার সময়, আর তো টিকি মেলে না। থাকিস কোথায় ? সুধাময়ী অশোককে সহ্য করতে পারে না। অশোকের চড়া গলা শোনা যায়। --কেবল কৈফিয়ত আর কৈফিয়ত, লে বাকবাঃ! বলি ভাতটা দেবে না চলে যাবো এমনিই ? বাসস্তবাবুর কানে আসছে কথাগুলো। অশোক তাকেও গ্রাহ্য করে না। এককালে বসন্তবাবু অনেক আদর্শের স্বপ্নই দেখেছিলেন। বিয়ে করেছিলেন অনেক বেশী বয়সে, সেদিন ওই আন্দোলনের ফাকেও সুধাময়ী এসছিল তার জীবনে। অভাবটা এত নগ্ন হয়ে ফুটে ওঠে নি। তখন। দেশের বাড়িতে জমি-জারাত ছিল, চণ্ডীমণ্ডপে ধূমধাম করে দূর্গাপ্রতিমা আসতো, আয়োজনের ক্রটি ছিল না। সেদিন তাই সেই বাউণ্ডুলে মানুষটাকে সংসারী করতে চেয়েছিলেন বসন্তবাবুর মা। ভেবেছিলেন সংসারের বাঁধনে বাঁধতে পারলে হয়তো ওই বিপ্লবী ছেলেটা ঘরবাসী হবে ওই পথ ছেড়ে । কিন্তু তা হয় নি । সেই বিদ্রোহী যাযাবর মানুষটাকে বাঁধতে পারে নি। ঘরের বঁাধন। সুধাময়ী বাড়িতে ছিল, আর বাসস্তবাবু বাইরে বাইরে সেই অগ্নিমস্ত্রের দীক্ষা নিয়ে ঘুরতেন। ওরা ছিল সবাহারানোর দলে। বেপরোয়া-অশাস্ত। ওকে বাঁধতে পারে নি সুধাময়ীর মত শাস্ত মেয়ে। তাই আবার হারিয়ে গিয়েছিলেন বসস্তবাবু। সেবার হিলির ওদিকে ধরা পড়ে বেশ কয়েক বৎসর জেলে কাটাতে হয়। !!}>>--------۔ —-এ্যা। বসন্তবাবু চমকে ওঠেন। ওই ডাকে। সাবিত্ৰী দেখেছে। বাবার আজকের এই অসহায় অবস্থােটা। দেশের কথা তার তেমন মনে পড়ে না। ছেলেবেলাতেই চলে এসেছিল। সে এখানে। তখনও তেমন জ্ঞান হয় নি। সাবিত্রীর।