পাতা:আমি শুধু একা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শোধ হবে না---এটা জানি আর মানি। আমার মত সুলেখাদিকে ঠকতে হবে না। এর €e} | কাজলবাবুর মুখখানা টসটসে রাঙা হয়ে ওঠে কি অপমানে। সাবিত্ৰী কথাটা শেষ করে ওর দিকে চেয়ে থাকে—চোট খাওয়া একটা সাপের মত ফণা তুলে বাতাসে হিসহিস করছে যে কোন মুহূর্তে আবার ছোবল মারবেতীব্র গরল জ্বালােভরা সেই ছোবল । কাজল চুপ করে কি ভাবছে। আগেকার দিনগুলোর কথা তার মনে আসে। সাবিত্রীর ওই বদলে যাওয়া স্বরূপটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দু’জনেই যেন একটা মিথ্যা ভুল বোঝাবুঝি আর অভিমানকে কেন্দ্র করে উদ্যত ফণা সাপের মত ফুসছিল। কাজল জানে না কোথায় তার জ্বালা। অনেক পেয়েও সে মনে মনে চরম অতৃপ্ত। অনেক পেয়েছে কাজল। আজ তার গানের কদর বেড়েছে। টাকা পয়সারও মুখ দেখেছে। কাজল। সাবিত্রীও ଐ (Strନ{{& ! কিন্তু অতীতের সেই দিনগুলোর কথা এতদিন ভোলবার চেষ্টা করেছে, তবু পারে न् ि। তিলজলার ওদিকের সেই টিনের বাড়ির অতিসাধারণ মানুষগুলোর কথা আজও ভোলেনি কাজল। তাদের মাঝে হতদরিদ্র অবস্থায় বাস করেছিল কাজল-তার সাধনা সিদ্ধির পথে এগিয়েছিল সেই মানুষগুলোর সাহচর্যে। ক্রমশঃ ধাপে ধাপে উপরে উঠেছে। হঠাৎ সেদিন ওই গানের স্কুলে সাবিত্রীকে দেখে কাজল চমকে উঠেছিল। ওখানে যেতে হয়েছিল কাজলকে সুলখার কথায় { কিন্তু গিয়ে সাবিত্রীকে দেখবে ওই অবস্থায় ভাবতে পারে নি। মনে হয়েছিল সাবিত্রীদের অবস্থার কথা। হয়তো অনেক নীচেই নেমেছে তারা বঁাচার তাগিদে। কিন্তু দেখেছিল সাবিত্রীর মধ্যে আগেকার সেই তেজী ভাবটা ফুরিয়ে যায় নি। আর দেখেছিল তার সহনশীলতা, ধৈর্য। সেই গানের স্কুলের ঝিগিরি করেও সাবিত্রী নিজেকে এই সাধনার মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে। OO