পাতা:আমেরিকার নিগ্রো - রামনাথ বিশ্বাস.pdf/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমেরিকার নিগ্রো মনিব আসবার কথা আছে, তিনি আজ মাইনে দেবেন। তাের আর আমার মাইনে রেখে দিস। মনে আছে আজ শনিবার। তিনটায় ফিরতে পারব। যদি পারিস ত জর্জদের ঘর থেকে আধ পাউণ্ড ভূট্টার ছাতু এনে সিদ্ধ করে রাখিস। হারামজাদা, তাের মুখটা দেখতেও ভয় করে ; এক কাজ কর, চিম্নীত অনেক ছাই আছে, কিছু ছাই দিয়ে মুখটা ঘসে ফেলিস, তবেই কর্তা মহাশয় তাের মুখ দেখে কিছু বলবেন না। আমি চললাম ; ঘরে যেন আচ্ছা না জমে। জর্জদের মেয়ে কটা ত দস্যি হয়েছে, বার বার এদিকে আসে ; এদের মুখ দেখলেও রাগ হয়।” এ পর্যন্ত বলেই মা চলে গেলেন। এখানে আর একটি ভুল করলাম, জর্জ মানে শ্বেতকায় জর্জ নয়, তিনিও আমাদের মতই নিগ্রো। আমরা একই ফার্মের লােক। আসলে জর্জ বলে কেউ নেই, ছিলেন কি না জানি না। জর্জিয়া হলেন পরিবারের মা, তার স্বামীর নাম জজ ছিল সেই সুত্রে তার স্ত্রীর নাম হয়েছে জর্জিয়া। তবে কথা বলতে হলে, জজ শব্দই আমরা ব্যবহার করি। আমাদের পরিবারকেও অনেকে ম্যাক পরিবারই বলে কিন্তু আমি ছাড়া আর কেউ ম্যাক নামে লােক নেই। যখনই আমাদের কর্তা মহাশয় ম্যাক পরিবার নিয়ে কোন কথা উত্থাপন করেন তখন আমার মায়ের মুখ গর্বে দপ্ত হয়, যেন সত্যিকারের একটি পরিবার। সবাই বােধ হয় পরিবার ভুক্ত হতে চায়। মা বলছিলেন, আমার নাকি কয়েকটা ভাই বােন হয়েছিল, কোনটিই মাসেকের বেশি বাঁচেনি। দূষিত রােগ সঙ্গে নিয়ে তারা জন্মেছিল। এই পৃথিবীতে কয়েক সপ্তাহ কাটাবার পর দূষিত রোগ স্বরূপ ধারণ করে এবং ফল যা হয় তাই হয়েছিল। আমার জন্ম হবার পূর্ব পর্যন্ত আমার মায়ের কোনও দূষিত বােগ হয়নি সেজন্যই