পাতা:আমেরিকার নিগ্রো - রামনাথ বিশ্বাস.pdf/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মনুষ্যত্ব লাভ • ১১ বলে। কি আর করা যায়, মায়ের কথা কোন মতেই অবহেলা করা যায় না। একদিন মা কোথা থেকে একখানা বই এনে আমার হাতে দিয়ে বললেন, “শােন ম্যাক, এক সপ্তাহের মধ্যে বইখানা শেষ করতে হবে, এতনী তােকে শেখাবে, বুঝলি?”। | ‘া মা, এতনী শেখাবে আর আমি শেখব সে ত ভাল কথা, কিন্তু ইয়াংকীদের দেশে যাবার কি হল? | মা বললেন, ইয়াংকীদের দেশে যেতে হলে লেখাপড়া জানতে হয়। কি আর করা যায়? এন্তনী সে দিনই এ বি সি শিখিয়ে দিয়ে গেল। বর্ণ পরিচয় হল, শব্দের উচ্চারণ কিছুটা শিখলাম এবং মন দিয়ে প্রথম বই বেশ ভাল করেই শেষ করলাম। তারপর এল দ্বিতীয় বই। এটা শেষ করতে তিন সপ্তাহ লাগল। এর পর আরম্ভ হল অঙ্ক কষা। এই করে তিন মাস লেখাপড়া শিখে সর্বপ্রথম বই স্বাধীনভাবে পড়তে আরম্ভ করলাম। বই এর নাম আংকল টমস কেবিন। বই আর কি পড়ব? দশ পাতা শেষ করে একাদশ পাতা উল্টাতে পারলাম না, চোখের জল টপ টপ করে পড়তে আরম্ভ করল। আমার চোখে জল দেখে মা বললেন, সে ত ছিল দাসের জীবন। আমরা সে অবস্থা উত্তীর্ণ হয়ে এসেছি। এখন যে অবস্থায় আছি এটাকে বলে লিষ্ণের জীবন। দাসের জীবন থেকে মুক্ত করেছিলেন লিনক। তাঁরই জাতের কত লােক আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছিল। লিষ্টের জীবন অপসারণ করবার জন্য লিন্ক ফিরে আসবেনা ম্যাক, হােভার আমাদের মুক্ত করতে পারবে না। আমাদের ভালমন্দ এবার আমাদেরই দেখতে হবে। হাঁ, বইটা