পাতা:আমেরিকার নিগ্রো - রামনাথ বিশ্বাস.pdf/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমেরিকার নিগ্রো মা আমরা কল্পনা করতে পারি না বাস্তৰে তাই পাচ্ছিলাম। এমন সুখের সময় কি আদর্শবাদ মনে রাখতে আছে? এক মাস কাজ করার পরই আমাকে সাপাের্ট করে একটি নূতন মতবাদের সৃষ্টি করলাম। মতবাদ সৃষ্টি করার কারণ ছিল। মায়ের সাদা মুখ যখনই দেখতাম তখনই মনটা আপনি দুঃখিত হত, ভাবতাম কতই অন্যায় করছি। বিবেক দংশনকে দাবাবার জন্য নৃতন মতবাদের সৃষ্টি করতে হচ্ছিল। অপরের রুটি ছিনিয়ে নেবার যে থিসিস আবিষ্কার করেছিলাম সেটা নিয়ে আলােচনা করতাম। আমার কেনা কাফির পেয়ালাতে চুমুক দিয়ে, চেষ্টারফিল্ড সিগারেট মুখে লাগিয়ে সকলেই থিসিস সমর্থন করত, কিন্তু যারা নিজের পয়সা দিয়ে কাফি কিন্ত তারা যখন আমার দিকে তাকাত তখন প্রাণটা কঁপত, কি জানি কোন্ সময় এরা আক্রমণ করে। আমার শরীরে কি কম শক্তি ছিল ? শরীরে শক্তি থাকলে কি হবে, মনের শক্তি কয়েকটি মুদ্রার বিনিময়ে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার বয়স তখন ষােল বৎসর। ক্ষুধা বেশ হত, প্রথম মাস কাটিয়ে দিলাম শুধু খেয়ে। রাতে যখন শুয়ে থাকতাম তখন একটি স্বপ্ন দেখতাম না, এক ঘুমে রাত শেষ হত। সকালে উঠেই কাজের চিন্তা করতাম। কি করে আরও ভাল কাজ করতে পারব, কোম্পানী লাভবান হবে সে চিন্তা, কাজ পাওয়ার চিন্তা নয়। প্রথম মাসেই দুই পাউণ্ড ওজন বেড়ে গেল। আমার মুখের দিকে যখন আমি চাইতাম বেশ ভাল লাগত। লাবণ্য বেশ বেড়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি রিষ্টওয়াচ কিনে ফেলি। বিষ্টওয়াচ হাতে দেব মাত্র হাতের শােভা বেড়ে গেল। নিজের হাত নিজেই দেখতাম আর ভাবতাম কি সুন্দর। ঘড়িটা যখন টিক্ টিক্ করত তখন মনে [ । | E