পাতা:আমেরিকার নিগ্রো - রামনাথ বিশ্বাস.pdf/৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উইলী অত্যাচার করতে ছাড়ে না। টাকার জন্য শিশু হত্যা, বৃদ্ধ হত্যা, সবই করে, তুমি কিন্তু ওসবে যেয়াে না। বুঝলে উইলী? ঈশ্বরে আমার বিশ্বাস নেই, যদি বিশ্বাস থাকত তবে বলতাম তারই নামে তুমি প্রতিজ্ঞা কর এসব কাজ করবে না।” মা যখন বলছিলেন ঈশ্বরের কথা তখন মাকে বললাম, “ঈশ্বর-ফিশ্বর এসব খেতকায়দের একচেটিয়া সম্পত্তি। শােন মা, তুমি আমার মা, কোনাে শ্বেতকায় তােমাকে ভুলেও মা বলবে না। তােমার নামে শপথ করছি, নরহত্যা দূরের কথা, মানুষের প্রতি কোনরূপ অত্যাচার করব না, এতে কি তুমি সুখী হবে?” হাঁ উইলী এই যথেষ্ট, এখন তুমি যেতে পার। | সে দিন বিকালবেলা আমাকে একটি পেভমেন্ট রুমে ঢুকিয়ে দেবার পূর্বে একটি পিস্তল এবং এক খানা ছুরি হাতে দিয়ে পাপীদের দলের একজন আমেরিকা বলেছিল, “খতম করে শরীরটা একটি বাক্সে পুরে হাডসন নদীতে ফেলে আসবে। এসব কাজ তােমাদের জন্য রিজার্ভ।” শুয়রের বাচ্চা আমেরিকাষ্টাকে তখনই হত্যা করতে ইচ্ছা হচ্ছিল, কিন্তু নরহত্যা করব না আমার প্রতিজ্ঞা ছিল। খেতকাটা চলে যাবার পরই মনে হল, “এটা ত মানুষ নয়, একে হত্যা করলে আমার প্রতিজ্ঞাতে কোনরূপ কলঙ্ক পড়ত না। দেখাই যাক কাকে হত্যা করতে নিযুক্ত করেছে। | রুমটাতে প্রবেশ করেই সুইস টিপে দিলাম। রুমের এক পাশে একটি সাত আট বৎসরের মেয়ে হাত পা বাঁধা অবস্থায় মেয়ের ওপর পড়েছিল। মেয়েটির সােনালী চুল, মুখ খানা রক্তশূন্য হওয়ায় মারবেল পাথরের মত সাদা দেখাচ্ছিল। মূখে রুমাল গোঁজা। চোখ দুটি জল অল করছে, এক ফোটা জলও পড়ছে না তার চোখ হতে। - । ।