পাতা:আমেরিকার নিগ্রো - রামনাথ বিশ্বাস.pdf/৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৮ আমেরিকার নিগ্রো পরনে মামুলী হাফপ্যান্ট, গা খালি। বুকটা ধড়ফড় করছে। তাড়াতাড়ি করে মুখ হতে রুমালটা বের করেই বললাম, চুপ; জল, খাবে খুকী, লক্ষ্মী আমার ? খুকী কিছুই বললে না। পাশের কল হতে জল এনে খুকীর নাকে মুখে দেওয়াতে সে একটু সুস্থ হল। একটু জলও খেল, তারপর অস্ফুট স্বরে বললে, “ও মা-ও মাগাে, ও মা-ও মাগাে।” তার মা মা বুলি আমার প্রাণে এমন একটি ধাক্কা দিয়েছিল। যে, মেয়েটির করুণ চাহনি সহ্য করতে পারছিলাম না। হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিয়ে সে স্থানে একটু মাসাজ করার পর খুকী দাড়াল। দাড়িয়েই বললে, তােমার চাকুটা ফেলে দাও বডড ভয় করছে। মারতে হয় চোখ বেঁধে গুলি কর, আমি কঁদব না। তারপরই খুকী ও-মা, ও-মাগাে বলে ফুপিয়ে কঁদতে আরম্ভ করল। চিন্তা করে দেখলাম এই অবস্থাতে খুকীকে আদর করা অন্যায়। খুকীকে বললাম, “খুকী যদি বাঁচতে চাও তবে আমার মা আছেন, তােমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাব। খুকীর জ্ঞান হল, সে বললে যা ইচ্ছা তাই কর, আর কঁাদব না । | খুকীকে বললাম, ঐ বাসটাতে শুয়ে পড়াে, আমি বাক্সটার মুখ এমনি ভাবে বন্ধ করব যাতে তােমার দম বন্ধ না হয়। খুকী বােধ হয় বুঝতে পেরেছিল আমি তাকে হত্যা কবব না, সেজন্য সে তাড়াতাড়ি করে বাসে শুয়ে পড়ল। আমিও সামান্য খড় বিছিয়ে দিয়ে বাসটা মামুলীভাবে বন্ধ করে পিঠে ওঠালাম এবং ঘর হতে বের হয়ে এক খানা নিগ্রো ট্যাকসি ডেকে সােজা বাড়িতে গেলাম। আমাদের বাড়িটা তিন তলা। বাক্স নিয়ে তিন তলায় উঠতে বেশ কষ্ট হল বটে কিন্তু যখন বাক্স খুলে খুকীকে বের করে মায়ের ।