পাতা:আমেরিকার নিগ্রো - রামনাথ বিশ্বাস.pdf/৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমেরিকার নিগ্রো বেড়াতে যেতে ইচ্ছা হত কিন্তু কোথাও যেত না, নির্ধারিত রুমে লুকিয়ে থাকত। প্রাণের মায়া তার ছিল কিন্তু লুকিয়ে থাকা তার পক্ষে অসহ্য হয়ে উঠছিল। উইলী যে কাজ করত তাতে সময় কাটত না। আরও কাজ করতে চাইত কিন্তু আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার অধিকার ছিল না। সে যদি দুই সিপ্ট কাজ করে তবে অন্য একটি লােক বেকার হবে। উইলী বুঝতে পারল কাজ না করতে পারা অথবা কাজ না করে অলস হয়ে বসে থাকা কত কষ্টকর। উইলীর শরীরের শক্তি, মনের বল কিছুরই অভাব ছিল না, শুধু অভাব ছিল কাজের। বাইরে যেতে পারলে কাজের অভাব হত না। রকমারী চিন্তায় তার মন অস্থির। নিজের চিন্তা প্রথম ; দ্বিতীয় চিন্তা এই দুনিয়ার নির্যাতিত নিগ্রোদের মুক্তি। উইলী রুমে আটক হয়ে থাকা পছন্দ করল না। নাবিক বেশে সমুদ্র তীরে বেরিয়ে পড়ল। মুক্ত সমুদ্র বায়ুতে অনেকক্ষণ বেড়াবার পর তার শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠল। মন যেমন ছিল তেমনি রয়ে গেল। তার সামনে অনেকগুলি জাহাজ নােম করা ছিল। প্রত্যেকটি জাহাজে আমেরিকার জল পুলিশ পাহারা দিচ্ছিল। এর মানে চোর ডাকাতের হাত থেকে জাহাজের মূল্যবান যন্ত্রপাতি রক্ষা নয়, এর মানে যদি কোন নাবিক বিনা পারমিটে জাহাজ হতে পালায় তবে তাকে গ্রেপ্তার করা। পৃথিবীর কোনও বন্দরে বিদেশী নাবিক পালিয়ে যাবার জন্য চেষ্টা করে না, শুধু আমেরিকার বন্দরেই নামতে চায়। উইলী ভাবলে, হয়ত এদেশে এমন কোন মােহ আছে যার জন্যে লােক এদেশে আসতে চায়। সেই মােহের স্বরূপ কি উইলী ভেবে পাচ্ছিল না। জ্ঞান আহরণ করতে হলেই জিজ্ঞাসু নয়ত পুস্তকের শরণাপন্ন হতে হয়, না হলে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয় না। উইলী অষ্টম এ্যাভিনিউ