পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মা করুণ চোখে তার খাওয়া দেখতে দেখতে বলে, এই খেয়ে কি করে এত খাটিস তুই ? এই বয়সে তোর এই খাওয়া !

শরীরটা ভাল নেই । ঃঃ আমারও মরণ নেই । কিছুই করার নেই, খেয়ে উঠে কেশব শুয়ে পড়ে। গোবিন্দের বাড়ীর দিকে তার ঘরের জানালা । জানালার পাশে চৌকিতে বিছানা পাতা । জানালার দিকে মুখ করে শুয়ে সে আকাশ পাতাল ভাবে।

একে একে আলো নেভে এ বাড়ীর ও বাড়ীর । রাত বেড়ে চলে । তখন আলো জলে মায়ার ঘরে । জানালায় একটি লণ্ঠন বসানো আছে দেখা যায় । খানিক পরে নিভে যায় আলোটা । মায়ার সংকেত । কিন্তু আজ যেন মায়ার ডাকে সাড়া দেবার ক্ষমতা নেই কেশবের । কি হবে গিয়ে ? মায়া ওই এক কথাই বলবে—যে কাজে এমন প্ৰাণের ভয় সে কাজ তুমি ছেড়ে দাও । কেশব ওঠে না। খানিক পরে তাকে চমকিত অভিভূত করে মায়া এসে তার জানাল ঘেষে দাড়ায় । ঘুমিয়েছে। নাকি ? হঠাৎ মমতার বন্যায় প্ৰাণটা যেন গলে যেতে চায় কেশবের । তার জন্য এও সম্ভব করতে পারে মায়া ? সন্ধ্যা রাত্রে চালা ঘরে এক রাঁধতে যার ভয় করে, ছেলেমেয়ে একজনকে পাহারা দরকার হয়, প্ৰায় মাঝ রাত্রে সে এসেছে কলাবাগান আর পুকুর পাড়ের অন্ধকার দিয়ে একা । ঃ কি আশ্চৰ্য্য, তোমার ভয় করল না ? ঃ করল না ? কি করব ? আজি আমার এত জরুরী কথা ছিল, আজকেই তুমি গেলে না। ঃ শরীরটা ভাল নেই আজ ।। চলে তোমার সঙ্গে যাচ্ছি। \d