পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু বেলা আর মিনু কেন দু'রকম হ’ল ? কারণটা কি বংশগত ? শুধু রক্তের তফাতের জন্য ? কিন্তু বেলার বাবা অজিতদের চেয়ে তাদের বংশই তো উচু । অথবা কারণটা এই যে অনেকটা ভাল অবস্থা থেকে তারা নীচে পড়েছে কিন্তু অজিতদের চিরদিনিই সমান দুরবস্থা ? যেমনি হোক ঠাকুর্দার আমলের একটা বাড়ী আজও তাদের আছে কিন্তু অজিতরা চিরদিন পরের ঘরের ভাড়াটে । কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে তাদের বাড়ীর মানুষের চেয়ে অজিতের পরিবারটির সম্পর্ক অনেক বেশী ঘনিষ্ট । সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ললনা ফিরে আসে । বলে, কলেরা বসন্ত লেগেছে খুব । রক্ষাকালীর পূজো হবে, চাঁদা চেয়ে নিল। রোগ ব্যারামের এমন ছড়াছড়ি বোধ হয় জগতে কোথাও নেই। এবার যেন কাটতেই চায় না অসুস্থ অবস্থাটা । এবার তো তার কয়েকদিনের জন্য একটু ভাল থাকার পালা । অসুখটা কি বেড়ে গেল ? আরও দীর্ঘ হল কষ্ট ভোগের সময় ? তবে একটা সান্তুনা এই যে এবার যেন লক্ষণগুলির উগ্ৰতা খানিকটা কম। আগের চেয়ে দু’এক ঘণ্টা বেশী ঘুম হচ্ছে, কিছু খেতেও পারছে। আগের আগের বারের মত শ্ৰান্ত দুর্বল হয়ে যায় নি। শরীরটা, ভোতা হয়ে যায় নি চিন্তা আর অনুভূতি । মায়ার উপরে। পৰ্য্যন্ত বিতৃষ্ণা জন্মে যায়। এবার মায়ার জন্যে ব্যাকুলত কমে গেলেও বিরাগের ভাবটা আসে নি। তার গাড়ী চালানো বন্ধ করতে কয়েকদিন মায়া পাগল হয়ে উঠেছিল, কি কারণে হঠাৎ চুপ করে গেছে। বোধ হয় টের পেয়েছে যে এই অসম্ভব আব্দার করে লাভ নেই। তার বদলে সে ধরেছে। অন্য আবদার । AY