প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:আর্য্যদর্শন - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* | ৰৈশাখ ১২৮২ । =====-ی বঙ্গবামার ধৰ্ম্মনৈতিক অবস্থ। । ○"> | তাহা হইলে আমরা স্বাধীন সমাজকে ন্যাভিচারী সমাজ বলিয়া গণনীয় করিতে পারিনা। সকল সমাজেরই ব্যবস্থা ও গঠন স্বতন্ত্র । কারণ বিশেষ বিশেষ | কারণ জন্য সকল সমাজেই বিশেষবিশেষ নিয়ম ও শাসনপ্রণালী প্রবর্তিত থাকে। তদ্ধারা সমাজের সংস্থিতি সাধিত হয়। এতদ্দেশেও প্রাচীন কালে স্বাধীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত ছিল তখনকার কালের আচার ব্যবহার এবং রীতি নীতিও স্বতন্ত্র ছিল। এক্ষণকার লোকসমাজে যে প্রকার | সতীত্ব ধৰ্ম্মের ভাব প্রচলিত আছে, তাহা বোধ হয় এক্ষণে অনেকাংশে প্রতীত হইতেছে । আমরা স্ত্রীজাতির আন্তরিক সতীত্ব বড় দৃষ্টি করি না, তাহাদিগের দৈহিক সতীত্ব রক্ষা হইলেই আমরা সন্তুষ্ট থাকি। পুরুষজাতি সহস্ৰ স্ত্রীর পাণিগ্রহণ করিয়াও দুশ্চারী ও অসল্লোক বলিয়া অভিহিত হয়েন না, কিন্তু দুৰ্ভাগ্য স্ত্ৰীজাতি প্রথম পতি ভিন্ন অন্য পুরুষে গমন করিলেই দুশ্চারিণী ও অসতী বলিয়া অভিহিত হয়েন । আমাদিগের সৎপুরুষের লক্ষণ একপ্রকার, সতী স্ত্রীর লক্ষণ অন্যবিধ। এই লক্ষণস্বয় পরস্পর বিরোধী। অতএব আমাদিগের সতীত্ব ধৰ্ম্মের সংস্কার সম্বন্ধে বিলক্ষণ গোলযোগ | আছে। বিরোধী লক্ষণদ্বয় উভয়েই কিছু এক ধৰ্ম্মের প্রকৃত লক্ষণে হইতে পারে না। পুরুষজাতীয় লক্ষণে যদি ধৰ্ম্ম হয়, স্ত্রীজt. তীয় লক্ষণে তবে অধৰ্ম্ম । তবে পুরুষজাতীয় লক্ষণে যে অনেক উদারতা ও মানব ======" প্রকৃতির সচিত সঙ্গতি লক্ষিত হয় তাহা কেহ অস্বীকার করিতে পারিবেন না। বিশেষতঃ যখন আমরা বিবেচনা করি পুরুষজাতি শাস্ত্রকার হইয়া আপনাদের পক্ষে কেন অবিচার করিরেন, তখন পুরুষজাতির লক্ষণে অনেকাংশে ধৰ্ম্মভাব উপলব্ধ হয়। তবে সেই লক্ষণের একটি অঙ্গ আমাদিগের নিকট নিতান্ত মানব প্রকৃতি-বিরুদ্ধ ৰলিয়া প্রতীত হয়। এককালে বহুস্ত্রীর পাণিগ্রহণ পূর্বক তাছাদিগের সহিত সহবাস কখন মানবপ্রকৃতি সঙ্গত নহে। এই স্থলে পুরুষ জাতি অযথা ক্ষমতা গ্রহণ করিয়াছে। এই নিয়মটি ব্যতীত সংপুরুষের অন্যান্য নিয়ম তত যুক্তি অথবা প্রকৃতি বিরুদ্ধ বলিয়া বোধ হয় না। সংপুরুষের বিশুদ্ধ নিয়ম যখন আমরা স্ত্রীজাতিতে আরোপ করি, তখন আমরা সতীত্ব ধৰ্ম্মের একটি নুতন ভাব উপলব্ধি করি। যাহা স্বাভা ৰিক মানবীয় ধৰ্ম্ম, তাহা আপনাদিগের মধ্যে প্রবর্তিত রাখিয়াছি, এবং প্রেমবিদ্বেষপরতন্ত্র হইয়া, স্ত্রীজাতির উপর প্রভুত্বের অধিকার বিস্তার করিয়া, তাছাদিগের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ও অস্বাভাবিক নিয়ম প্রবর্তিত করিয়াছি। তবে এক্ষণে সার কথা এই, যদি পুরুষজাতির লক্ষণ স্বাভাবিক বলিয়া মানবীয় ধৰ্ম্মানুমত হয়, স্ত্রীজাতির লক্ষণ তবে অস্বাভাবিক বলিয়া অবশ্য অধৰ্ম্ম বলিয়া নির্দেশ করিতে হইবে। কারণ একই ধম্মের লক্ষণ কৰ্থন দ্বিবিধ হইতে পারে না। এত কাল