পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/২৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


호t한, >이o II দ্বিজেন্দ্ৰলাল রায় ২৬৩ এই অনুকরণের ও অনুসরণের ফলে তঁাহার কবিতার ছন্দ ও গানের সুরও সময় সময় বিদেশী হইত। আমার মনে আছে, বিলাত হইতে ফিরিবার অল্পদিন পরে তিনি এক দিন রামতনু লাহিড়ী মহাশয়কে স্বরচিত একটি হাসির গান শুনাইতেছিলেন । সুরটি নিতান্ত অপরিচিত বোধ হওয়ায় লাহিড়ী মহাশয় তাহাকে সুর জিজ্ঞাসা করিয়া জানিয়াছিলেন, সুরাটা বিলাতী । যে সুর লাহিড়ী মহাশয়ের কাণেও বাজিয়াছিল সে সুর দেশের জনসাধারণের কাণে অবশ্যই বাজিবে । অপ্ৰিয় সুরের অন্তরায় ভেদ করিয়া কয়জন গানে হাস্যরস উপভোগ করিতে অগ্রসর হইবে ? আমাদের বর্তমান সময়ের সাহিত্যে বিদেশীয় প্রভাব বড় পরিস্ফুট। রাজনারায়ণ বসু মহাশয় তাহার ‘সেকাল আর একাল” পুস্তিকায় লিখিয়াছিলেন, “এক্ষণকার অধিকাংশ কাব্যে ইংরাজী ইংরাজী গন্ধ কহে । এক্ষণকার কোন কোন কাব্যে পূৰ্ব্বকার কাব্য অপেক্ষা কোন কোন বিষয়ে অধিক ক্ষমতা প্ৰকাশিত আছে বটে, কিন্তু জাতীয় ভাব, সারল্য ও সহৃদয়তা বিষয়ে হীন বলিতে হইবে।” বঙ্কিমচন্দ্ৰ বলিয়াছেন, “আজিকার দিনের অভিনব এবং উন্নতির পথে সমান্নাঢ় সৌন্দৰ্য্যবিশিষ্ট বাঙ্গালা সাহিত্য দেখিয়া অনেক সময়ে বোধ হয়-হৌক সুন্দর, এ বুঝি পরের- আমাদের নহে। খাটি বাঙ্গালীর কথায়, খাটি বাঙ্গালীর মনের ভাব ত খুজিয়া পাই না । * * মধুসুদন, হেমচন্দ্ৰ, নবীনচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ শিক্ষিত বাঙ্গালীর কবি --ঈশ্বর গুপ্ত বাঙ্গালার কবি । * * আমরা ‘বৃত্রিসংহার’ পরিত্যাগ করিয়া ‘পৌষপার্বণ” চাই না। কিন্তু তবু বাঙ্গালীর মনে ‘পৌষপার্বণে” যে একটা সুখ আছে “বৃত্ৰসংহারে’ তাহা নাই। পিঠাপুলিতে যে একটা সুখ আছে, শচীর বিম্বাধরপ্ৰতিবিম্বিত সুধায় তাহা নাই।” সেই জন্যই আজিকার দিনের এই অভিনব এবং উন্নতির পথে সমারূঢ় সৌন্দৰ্য্যবিশিষ্ট বাঙ্গালা সাহিত্য সঙ্কীর্ণ সীমাবদ্ধ সমাজে সসঙ্কোচে অবস্থান করে- যাহারা দেশের মেরুদণ্ড দেশের সেই জনসাধারণের উপর তাহার কোন প্রভাব নাই--সেই জনসাধারণের নিকট তাহার আদর নাই। আমরা আজ কাল শিক্ষিত বলিতে যাহা বুঝি সেইরূপ শিক্ষিত বাঙ্গালীর সংখ্যা কত ? এ অবস্থা যে সাহিত্যের সমুন্নতির বিস্ত্র তাহাতে আর সন্দেহ নাই। আমাদের সাহিত্যিকগণ যে এই বিষম বিস্ত্রও অতিক্রম করিয়া সাহিত্যের উন্নতি-সাধনে প্ৰবৃত্ত ও পারগ। হইয়াছেন, ইহা তাহদের কৃতিত্বেরই পরিচায়ক । কিন্তু ইহাতে