পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/৩৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গবাদি পশুপালনও এখানকার লোকের জীবিকার মধ্যে গণ্য। ইহাৱা পশুলোিশ দ্বারা নিজেরা নিজেদের ব্যবহাৰ্য্য পশমী বস্ত্ৰ বয়ন করে, পার্বত্য নদীর প্রখর স্রোতের বেগে জাত ঘুরাইয়া কাঠ খোদাই ও পালিশ করিয়া কাঠের থালা, ঘটী, বাটী নিৰ্ম্মাণ করে। অন্য শিল্পকৌশল किछू cलथ यांश नों বাণিজ্য তা নাই বলিলেই হয় ।” এই সকল বর্ণনার মধ্যে এক একটি লোকের চিত্ৰ যেন সমস্ত বৰ্ণনায় বৈচিত্র্য ও উজ্জ্বলতা দান করিয়াছে। লেখক নিপুণ চিত্রকারের মত দুই চারিটি রেখাপাতে এক একটি চিত্র ফুটাইয়া তুলিতে পারেন। তাই এই সব চিত্রগুলি সজীব ও সুন্দর হইয়াছে। এই বৰ্ণিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মনোরির পথে যে য়ুরোপীয়া মহিলা দারুণ দুৰ্য্যোগে তঁহার বারান্দায় আশ্ৰয়-গ্ৰহণপ্ৰয়াসী যাত্রীদিগকে দেখিয়া “ক্রোধে মার-মূৰ্ত্তি হইয়া” রূক্ষসুরে “নিকুলো নিকুলো হিয়াছে, আন্তী নিকলো” বলিয়া সকলকে দূর করিয়া দিয়া। তবে সুস্থির হইয়াছিলেন ; রামবাড়ীতে যে দোকানদার করকাপাতের সময় যে যাত্রীরা তাহার দোকানের দ্রব্য কিনিবে না, তাহাদিগকে বাহির করিয়া দিতে চাহিয়াছিল, কিন্তু দোকান-ভাড়া দিতে চাহিলে আহত অভিমানে বলিয়াছিল,-“ক্যা, মেই মুসলমান লোগ হায় ? আচ্ছা দে’কে কেরেয়া লেঙ্গে ?” আর পিপুল-কুঠতে যে পোষ্টমাষ্টার গ্ৰন্থকারের সঙ্গে “দেশের উন্নতির কথা, শিক্ষার কথা এবং তা হাতে বাঙ্গালীর অগ্রসরতার কথা” বলিয়া তিনি যে “সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দৃষ্টি কলিকাতা হইতে একটি ওয়াচ ঘড়ী আনাইয়া সম্পূর্ণরূপে ঠকিয়াছিলেন” “দুঃখ মিশ্ৰিত হাস্তের সহিত” সে গল্প করিয়াছিলেন -এই কয়জন বিশেষ উল্লেখযোগ্য । গ্ৰন্থখানি ৪০৪ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত ও সচিত্র। পুস্তকে উত্তরাখণ্ডের একখানি মানচিত্রও আছে। বাঙ্গালা ভাষায় এরূপ ভ্রমণবৃত্তান্ত দুর্লভ ।