পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/৪০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৭২ ৷ আৰ্য্যাবৰ্ত্ত।। ৪ৰ্থ বর্ষ—৫ম সংখ্যা। সারা জীবন দুঃখেই কাটাইয়াছে-পুত্র, পুত্রবধু পৌত্র লইয়া দুই দিন সুখ- “ ভোগ করিতে পায় নাই ।” হরিনাথের কথা শুনিয়া যতীশ কঁাদিয়া ফেলিল। পিতার সহিত আপনার ব্যবহারের কথা মনে করিয়া আজি সে অশ্র সম্বরণ করিতে পারিল না । তাহাকে আশ্রমোচন করিতে দেখিয়া হরিনাথ বলিলেন, “দুঃখ করিও না। তিনি তোমাকে এখনও আশীৰ্বাদ করিতেছেন। তঁহার আশীর্বাদেই আজ তোমার সৌভাগ্যোদয়-সম্পদলাভ।” যতীশের মনে হইল, সত্যই ধরণীধর তাহার সকল অপরাধ বিস্মৃত হইয়া তাহাকে আশীৰ্বাদই করিয়াছেন-সেই আশীর্বাদেই সে সংসারে সুখ লাভ করিয়াছে। নহিলে এ সংসারে সুখ বা শান্তিলাভে তাহার কিসের অধিকার ? হয় তা ঘরণীধর জীবনে যে যাতনা-ক্লেশ ভোগ করিয়াছিলেন, মরণে সে সব বিশ্বত হইয়া স্নিগ্ধ শান্তি লাভ করিয়াছিলেন ; হয় ত তিনি র্তাহার সন্তানের সকল অপরাধ ভুলিয়া তাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিতেছিলেন। কে বলিবে ? ঘাট ও মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন স্থির করিয়া যতীশ সপরিবারে শানগরে আসিল । এবার ইচ্ছাপুর হইতে সকলে তাহার গৃহে আসিলেন। বামাচরণও এক দিনের জন্য সপরিবারে কলিকাতা হইতে আসিল । কারণ, সে কাঞ্চনকৌলৗন্তের অসন্মান করিতে অসম্মত ; আর যতীশচন্দ্ৰ অদৃষ্ট-চক্রের আবৰ্ত্তনে এক্ষণে সেই কুলীন সম্প্রদায়ভুক্ত। শৈলজা পুত্রকন্যা লইয়া পূর্বেই ভগিনী-ভগিনীপতিকে দেখিতে বাপের বাড়ী আসিয়াছিল ; স্বামীকেও ছাড়ে নাই-সঙ্গে আনিয়াছিল । সে-ও শা’নগরে আসিল। তাহার আনন্দে সমস্ত গৃহ যেন আনন্দোজ্জ্বল হইয়া উঠিল। কিন্তু শরতের রবিকরোজ্জল গগনের এক প্রান্তে একখানি ক্ষুদ্র মেঘের মত তাহার হৃদয়ের এক কোণে একটু বিষন্নতা লাগিয়া ছিল-সে বিরজার জন্য। বিরাজ ইচ্ছাপুর হইতে কাশী যাইবার পথে শানগরে আসিয়াছিল। সে যখন সরোজার ভাগ্যপরিবর্তনের সংবাদ পাইল, তখন তাহার মনে হইল, যেন সে কৰ্ত্তব্যকারাগার হইতে সহসা মুক্তি পাইয়া স্বাধীন হইয়াছে। সে বুঝিল-দেবতা সরোজার মত তাহার দিকেও সুপ্ৰসন্ন দৃষ্টিপাত করিয়াছেন। সরোজার প্রতি আপনার কৰ্ত্তব্য স্মরণ করিয়া, তাহাকে আপনার স্নেহসতর্ক যত্নে ঘিরিয়া রাখিয়া সে ইচ্ছাপুরে ছিল। আজ তাহার সে কৰ্ত্তব্য শেষ হইয়াছে। আজি সরোজা তাহার ঈপ্সিত আশ্রয় পাইয়া