পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/৪৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లిలి আৰ্য্যাবত্ত । sef <{6, -ert, 7trwy সন্দেহের অনুকুল বলিয়া মনে হয়। সহসা এক দিন এই ধূমায়িত অশান্তি প্ৰজ্বলিত হইয়া মহান অনর্থ সংঘটিত করে। চৈত্রের নিশি প্রায় শেষ হইয়া আসিয়াছে। এখনও জগৎ সুপ্তিময়। দুই একটি পাখী ডাকিতে আরম্ভ করিয়াছে। মুক্ত বাতায়ন দিয়া তখন বাসন্তী উষার স্নিগ্ধ বায়ু গিরণের শয়নকক্ষে প্ৰবেশ করিতেছিল। রাজকুমার তখনও নিদ্রিত। কিন্তু অনিন্দ্যার ঘুম পূর্বেই ভাঙ্গিয়া গিয়াছিল। তাহার কুসুমকোমল হৃদয়ে চিন্তা-কীট প্রবেশ করিয়াছে। স্বামী যে তঁাহার জন্য সমস্ত বিসর্জন দিয়া সকলের নিন্দাভাজন হইতে বসিয়াছেন, ইহাই তাহার চিন্তার ও কষ্টের কারণ ; তিনি যে স্ত্রীকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখিতে আরম্ভ করিায়াছেন, সরলা অনিন্দ্যার ধারণায় তাহা কখনও আইসে নাই। কিরূপে র্তাহাকে পুনরায় কৰ্ত্তব্যের পথে আনিতে পারা যায়, প্ৰভাতকল্প রজনীতে নিদ্রিত স্বামীর পাৰ্থে বসিয়া সাধবী স্ত্রী তা হাই ভাবিতেছিলেন । উষার ক্ষীণ আলোক যখন কক্ষমধ্যে প্ৰবেশ করিল, দুঃখভারাক্রান্ত অনিন্দ্যা তখন স্বামীর মুখের উপর দৃষ্টি বিন্যস্ত করিয়া মনে মনে বলিতে লাগিলেন,- “প্রিয়তম, আমার জন্য সকলে তোমার নিন্দা করে। আমার বুকে যে তাহা শেলসম বিধিতেছে, তাহা তোমাকে কেমন করিয়া বুঝাইব ? পতিনিন্দা শ্ৰবণে সতী দেহত্যাগ করিয়াছিলেন, আর আমি এতই পাপিষ্ঠ যে, আমিই পতির কলঙ্কের কারণ হইতেছি ! হায়! আমার সতীত্বের গৌরব এখন কোথায় ?” তখন তাহার মনের মধ্যে এমন এক প্ৰবল আবেগের বন্যা আসিয়াছিল। যে, তাহার অজ্ঞাতসারে তঁহার চিন্তার শেষাংশ বাক্যে ফুটিয়া বাহির হইয়া পড়িয়াছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে ঠিক সেই সময়ে গিরণের নিদ্রা ভাঙ্গিয়া আসিতেছিল। “পাপিষ্ঠা” “কলঙ্ক’ প্ৰভৃতি কয়েকটি কথা এবং শেষের সমগ্ৰ বাক্যটি তাহার কৰ্ণে গিয়াছিল। সন্দিগ্ধচিত্ত গিরণ যখন তন্দ্ৰাঘোরে। এই কয়টি কথা শুনিলেন, তখন পত্নী যে অপরের প্রতি আসক্ত এবং পাপের অবশ্যম্ভাবী। ফলে অনুতাপ আসিয়া মাঝে মাঝে ক্ষণেকের জন্য পাপীয়সীর হৃদয় অধিকার করে বলিয়াই ৰে। তাহার মুখ হইতে অনবধানে এই সকল কথা বাহির হইয়া যায়, ইহাই তাহার ধ্রুব বিশ্বাস হইল। তিনি দিগ্বিদিকৃজ্ঞানশূন্য হইয়া পড়িলেন। এক ভীষণ সঙ্কল্প তাহার মনে আসিয়া উপস্থিত হইল ।

  • গিরণ কোন কথা না কহিয়া পত্নীর প্রতি এক তীব্ৰ কটাক্ষ নিক্ষেপ