পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (তৃতীয় বর্ষ).pdf/১৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sዓ8 আৰ্য্যাবৰ্ত্ত । ७१ - ७ ९ ॥ ভাবহীন, অর্থহীন। অথচ সৰ্ব্বাৰ্থময়ী, সৰ্ব্বক্ষেমঙ্করী দৃষ্টিবিনিময় করিতে পারি না। তখন যাহাকে লইয়া পর্বতশৃষ্ঠে, মন্দিরপ্রাঙ্গণে, সমুদ্রতীরে, গৃহকুটুমে ছুটিাছুটি করিতাম এখন কয় দিন তাহার দর্শন লাভ ঘটে ? তখন শকটাভ্যন্তরে, ভ্রাতৃবন্ধুসম্মিলনে আমি যে তাহার আশ্ৰয়-অবলম্বন ছিলাম । দ্বিধাহীন, ভেদহীন, বিধানবিহীন, ৰ্যবধানবিরহিত উদার পবিত্র অকপট স্নেহের পুণ্য প্ৰস্তায় তখন আমরা প্রথমসামবারমুখরিত তপোবনে তাপনতনয় এবং মুনিকস্যার ন্যায় এক পুণ্য লোকে পুণ্য স্নেহে ভরপুর ছিলাম। সে দিন গিয়াছে, আর আসিবে না। রাজার ঐশ্বৰ্য্য, ঋষির ঋদ্ধি, ইন্দ্রের ইন্দ্ৰস্তত্ব দিলেও তাহার একটি দিন, একটি পল, একটি অনুপলও আর ফিরিয়া আসিবে না। সৰ্ব্বগ্রাসী কাল যাহা কিছু সুন্দর, যাহা কিছু উজ্জ্বল, যাহা কিছু পবিত্ৰ সব গ্ৰাস করিয়াছে; তাহ। ফিরাইয়া পাইবার, পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করিবার সামর্থ্য নাই। সে যে নিয়তি । () 4. যে দিনের কথা বলিয়াছিলাম, সে দিন বিদায়ের পূর্বদিন। সে দিন পূর্ণিমা, অথবা শুক্ল পক্ষের চতুৰ্দশী। চাদ উঠিয়াছে, রজত কিরণে সমুদ্র প্লাবিত। তারিয়ে শশধরের প্রতিকৃতি হেলিয়া দুলিয়া, ঢলিয়া মজিয়া সমুদ্রের তরল প্ৰকৃতিকে তরলরত করিয়া তুলিয়াছে। তৎপার্থে শত শত ক্ষুদ্র তারকা মাচিতেছে। বিদায়ের বিষাদে উভয়েই ক্ষুন্ন, উভয়েই মলিন। কিঞ্চিৎ দুরে বালিকার ভ্ৰাতা এবং আমার পূর্বপরিচিত বন্ধু মৃদু কথোপকথন করিতেছিলেন। আমরা কিন্তু উভয়েই মূক। কি এক অননুভূতপূৰ্ব্ব অনুভূতি আমাদের উভয়ের হৃদয়ে যুগপৎ বাজিয়া উঠিয়াছে! আমাদের অনাবিল স্নেহে এক ক্ষুদ্র লঘু বিষাদরেখা উঠিয়াছে। পূর্ণেন্দু যেমন সমুদ্রগর্ভে কঁাপিতেছিল, আমাদের উভয় হৃদয়ে বোধ হয় তেমনই স্পন্দিত হইতেছিল। অথবা তুফান উঠিয়াছিল আমার পরিণত হৃদয়ে ;-বালিকার হৃদয় স্বভাবতঃ যেমন স্বচ্ছ, স্থির, ধীর তেমনই ছিল। তাহাতে হিল্লোল উঠিবার পরিপক্কতা তখন জন্মে নাই ; তবে ইহা নিশ্চিত যে, সে ক্ষুদ্র হৃদয়ে বিচ্ছেদব্যথার সহানুভূতি জাগিয়াছিল ; নতুবা চঞ্চল বালিকা প্ৰবীণার গাষ্ঠীৰ্য্য লইয়া মূক হইয়া বসিয়া থাকিবে কেন ? বিবাদবেদনায় আৰোগ ভরে ডাকিলাম –“সরঘু" । সরযু তাহার বাম হস্ত