পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (তৃতীয় বর্ষ).pdf/২৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রাবণ, ১৩১৯ । ফরাসী বিপ্লবের ইতিহাস । &१७ পরদিবস বহুসংখ্যক ব্যক্তি তরবারি, সঙ্গীন ও প্ৰদীপ্ত মশাল হন্তে অকুতো ভয়ে চতুর্দিকে ভ্ৰমণ করিতে লাগিল। তা তারা লামিননের কুশপুত্তলিকার অগ্নিকাৰ্য সম্পাদন পূর্বক সমর-সচিব ব্রাইনের গৃহে অগ্নি প্রদানকল্পে, নক্ষত্ৰবেগে ধাবমান হইল। তাহারা তথায় আগমন পূর্বক সাতিশয় ব্যগ্ৰতা সহকারে গৃহদ্বারা ভঙ্গের আয়োজন করিতেছে, এমন সময় গার্ড ডি ফ্রাঙ্ক নামক সৈনিকদল বিদ্যুৎ বেগে উপস্থিত হইয়া তাহাদিগকে সঙ্গিনের সাহায্যে আক্রমণ করিল। উভয় পক্ষে বহুক্ষণব্যাবৎ ঘোরতর যুদ্ধ চলিল। পরিশেষে উভয় পক্ষের বহুসংখ্যক ব্যক্তি হত হইল। শান্তিভঙ্গকারীরা রণে ভঙ্গ দিয়া পলায়ন করিল। সম্প্রদায় সমিতির গঠনপ্রসঙ্গে মতভেদ উপস্থিত হইয়া সমগ্র দেশে আন্দোলন চলিতেছে, এবং পারিস নগরের উষ্ণমস্তিষ্ক ইতরসাধারণ ক্ষণে ক্ষণে চণ্ডমূৰ্ত্তি ধারণ-পূর্বক শান্তিরক্ষকগণের সহিত শক্তিপরীক্ষায় প্ৰবৃত্ত হইতেছে, ইত্যাবসরে সভ্যনিৰ্বাচনসংক্রান্ত নিয়মাবলী যথারীতি সমগ্ৰ দেশে প্রচারিত হইল। কয় দিবস পরেই প্ৰথমতঃ নিৰ্বাচন-সমিতির এবং তৎপরে সম্প্রদায়-সমিতির সভ্যগণ নির্বাচিত হইলেন । সম্প্রদায়-সমিতির অধিবেশনকাল সমাগত দুষ্টে ফরাসী জাতির আনন্দের পরিসীমা রহিল না। সামাজিক ও শাসন সম্বন্ধীয় সর্বপ্রকার কুপ্ৰথা নিবারিত হইয়া সমগ্র ফরাসী রাজ্যে সাম্য সংস্থাপিত হইবে ; অচিরে ফরাসীজাতি সভ্য জগতের শীর্ষস্থান অধিকার করতঃ সমগ্র জগতের দৃষ্টি আকর্ষণ করিবো,-সেই জন্য আবালবুদ্ধবণিতা সকলেই উৎফুল্ল। কিন্তু পালিয়ামেণ্ট, ভূস্বামী ও ধৰ্ম্মযাজকগণের হরিষে বিষাদ উপস্থিত হইল। তঁহারা তৃতীয় সম্প্রদায়ের সহিত সম্মিলিত হইয়া সম্প্রদায়-সমিতির প্রতিষ্ঠা কামনা করিয়াছিলেন , কিন্তু এইক্ষণে বুঝিতে পারিলেন যে, সমিতির অধিবেশন আরন্ধ হইলেই জাতীয় শক্তির প্রাদুর্ভাবে পালিয়ামেণ্টের প্রাধান্য ও শ্রেণী বিশেষের অযথা প্ৰতিপত্তি সমস্তই বিলুপ্ত হইবে। কিন্তু কৃতকৰ্ম্মের ফলভোগ ভিন্ন এখন আর ७%tशालत नाई। ( ক্রমশঃ ) শ্ৰীসুরেন্দ্রনাথ ঘোষ ।