পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (তৃতীয় বর্ষ).pdf/৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


yb আৰ্য্যাবৰ্ত্ত । ৩য় বর্ষ- ১ম সংখ্যা । নাম জিজ্ঞাসা করিয়া বলিলেন, “মহিলাটি অত্যন্ত অসুস্থ । তঁহার হৃদয় দুৰ্ব্বল-শরীর বালশূন্য। ডাক্তার বলিলেন, সামান্য উত্তেজনায় যখন তখন মৃত্যু হইতে পারে। আজ খানিকটা ঘুরিয়া তিনি বড় অসুস্থ হইয়াছেন। ডাক্তার ঔষধ দিয়া বিশ্রামের ব্যবস্থা করিয়া গিয়াছেন। কিন্তু তিনি আপনার সহিত সাক্ষাৎ কব্লিবেন বলিয়াছেন-কাহারও নিষেধ শুনিবেন না। দেখিবেন, যেন কোন কারণে র্তাহাকে ব্যস্ত করিবেন না ।” একজন ভৃত্য আমাকে নির্দিষ্ট কক্ষদ্বারে লইয়া গেল। দ্বার ভেজান ছিল ; আমি আঘাত করিলে প্রশ্ন হইল “কে ?” আমি নাম বলিতে উত্তর আসিল, “ভিতরে আইসি।” বোধ হইল, যিনি উত্তর দিলেন, তিনি হাফাইতেছেন। আমি প্ৰবেশ করিয়া দেখিলাম-রমণী একখানি কোঁচে। শয়ন করিয়া আছেন। তাহার মুখ যেন রক্তলেশশূন্য, তিনি হাফাইতেছিলেন। আমাকে দেখিয়া তিনি কাতর স্বরে বলিলেন, “উপবেশন কর।” A. পার্থে একজন শুশ্রুষাকারিণী বসিয়া ছিলেন ; আমি তাহার পার্শ্বে বসিলাম-রোগিণীর কপালে হাত দিয়া দেখিলাম কপাল ঘৰ্ম্মাক্ত। সে দিন। আর কোন কথা হইল না ; রাত্রি অধিক হইলে আমি গৃহে ফিরিলাম। 8 পরদিন আফিসে অল্পক্ষিণ কায করিয়াই ছুটী লইয়া বাহির হইলাম। হােটেলে পৌঁছিয়া দেখিলাম, মহিলাটি অনেকটা সুন্থ তবে গত রজনীর যন্ত্রশার চিহ্ন তাহার মুখে স্বপ্ৰকাশ। তিনি আমাকে বলিলেন, “বৎস, উপবেশন কর।”-তাহার পরই বলিলেন, “তুমি বলিয়াছিলে, আমি তোমার মাতৃস্থানীয়া তাই এরূপ সম্বোধন করিলাম-রাগ করিবে না। ত ?” আমি বলিলাম, “আপনি আমাকে “আপনি বলিলেই বরং আমি দুঃখিত হাইতাম। আমাদের দেশে পিতার বন্ধু পিতৃস্থানীয়-বান্ধবী মাতৃস্থানীয়া।” তিনি হাসিলেন, পাণ্ডুর ওষ্ঠ্যাবরে সে ক্ষীণ হাসি শরতের বর্ষণলঘু মেঘে বিদ্যুদ্বিকাশের মত দেখাইল। তিনি বলিলেন, “আমি তাহা জানি-তোমাদের সুমধুর সাহিত্য যে পাঠ করিয়াছে সে কি তাহা না জানিয়া থাকিতে পারে ?” তাহার পর তিনি বলিলেন, “কল্য রাত্ৰিতে বড় ভয় হইয়াছিল-বুঝি তোমার সহিত আর দেখা হইল না-বুঝি যে জন্য ব্যস্ত হইয়া ভারতে আসিলাম। সে কাষ অসম্পন্ন রাখিয়া-তোমাকে আত্মপরিচয় না দিয়া-আমার