পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (তৃতীয় বর্ষ).pdf/৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈশাখ, ১৩১৯ ৷৷ ব্যর্থ প্ৰেম 6lტ “প্ৰতীক্ষার দারুণ যন্ত্রণার কণ্টকশয়নে আমি আর এক সপ্তাহকাল কাটাইলাম। পত্ৰ আসিল না। “বলিবার আর কি আছে ? আমার ও দিন ফুরাইয়া আসিল। চিকিৎসকগণ যখন বলিলেন, আর অধিক দিন নাই ; তখন আমার মনে প্রবল বাসনা জন্মিল-আমি ভারতবর্ষে মরিব ।—সেই বাসনার দুৰ্দমনীয় উত্তেজনায় আমি ভারতে আসিয়াছি । আমি ভারতবর্ষে মরিতে আসিয়াছি । আমার শেষ ইচ্ছা ভগবান পূর্ণ করিয়াছেন। আমি যে ভারতে আসিয়াছি, আমি যে এই গৃহে—তোমার নিকট মরিতেছি। ইহা আমার পরম সুখ-চরম সৌভাগ্য। আমি বিদেশ হইতে স্বদেশে-স্বজনের নিকট আসিয়াছি।” তাহার মুখে রোগব্যাতনার চিহ্ন লুপ্ত হইল-সে মুখে স্নিগ্ধ প্ৰফুল্লতা বিকশিত হইল । আমি বলিলাম, “আমার অদৃষ্ট আমার প্রতি বিমাতার মত দুষ্ট ব্যবহার করিতেছেন। আমি শৈশবে মাতৃহীন—আর এই যৌবনে আপনার মাতৃস্নেহও কি আমি সন্ত্যোগ করিতে পারিব না ?” তিনি আমার মস্তকে তঁহার করতল সংস্থাপিত করিয়া বলিলেন, “বৎস, বিধাতার বিধান অলঙ্ঘনীয়।” তিনি তঁাহার হাতব্যাগটি আনিতে বলিলেন । ব্যাগ হইতে একখানি দলিলের নকল লইয়া আমাকে দিয়া তিনি বলিলেন, “বৎস, জননীর দান বলিয়া ইহা গ্ৰহণ করিও ।” সেখানি কুমারী এভান্সের উইলের নকল। সে উইলে তিনি তঁহার বিপুল সম্পত্তি র্তাহার বন্ধুপুত্ৰকে দিয়াছেন। ཤཱ দুই দিন পরে বিহগবিরাবিত উষায় আমার পত্নীর অঙ্কে মন্তক রাখিয়া পূৰ্ব্বগগনে দিবালোকবিকাশ দেখিতে দেখিতে তাহার হৃৎপিণ্ড স্থির-নিশ্চল হইয়া গেল ;—তাহার শেষ শ্বাস তাহার জীবন-দেবতার জন্মভূমি ও মৃত্যুস্থান ভারতবর্ষের বায়ুতে মিশাইয়া গেল। যে বিদেশকে তিনি স্বদেশ মনে করিয়াছিলেন সেই বিদেশে-যে নিঃসম্পৰ্কীয়দিগকে তিনি একান্তু আপনার । মনে করিয়াছিলেন তাহারাই দুইজন ভঁাহার সমাধিশয়নে অশ্রু বর্ষণ করিল। t 举 譬 ,* হায় প্ৰেম, তোমার মত অঘটন ঘটাইতে আর কে পারে ? Sp