পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৩১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


曝 ساده আৰ্য্যাবর্ত *य वर्ष-८म সংখ্যা। রাজ-বৈদ্য আর কোন উত্তর করিতে পারিলেন না । নগরপাল পথ দেখাইয়া চলিলেন-রাজা তাহার পশ্চাদ্বত্তী হইলেন। সেদিন রাজা যেরূপ গৃহে গমন করিলেন, প্ৰবল-কুৰ্ত্তব্য-বুদ্ধির প্ররোচনা ও উত্তেজনা ব্যতীত তিনি সেরূপ গৃহে মুহুৰ্ত্ত তিষ্ঠিতে পারিতেন না।” সে দিন মলিন, জীর্ণ শয্যার পার্থে রাজার মূৰ্ত্তি দেখিয়া কত ব্যাধিতের অন্তিম-মুহুৰ্ত্ত আনন্দোজল হইয়া উঠিল। একজন বৃদ্ধ ব্যাধিত অশ্রাকম্পিত কণ্ঠে বলিল, “এ মৃত্যুও সুখের। দেবতাকে সম্মুখে রাখিয়া এ মৃত্যু সাধনার ফল।” রাজাকে যাতনায় সহানুভূতি প্ৰকাশ করিতে দেখিয়া সে দিন কৃতজ্ঞতায় কত কোটরগত নয়ন হইতে অশ্রঞ্চ গড়াইয়া পড়িল । তাহার পর রাজাকে আরও দুষ্কর। কাৰ্য্য করিতে হইল। কত গৃহে পুত্রশোকাতুরা জননীর, ভ্ৰাতৃহীনা ভগিনীর, পতিগতপ্ৰাণা বিধবার, পিতৃহীন সন্তানের আকুল ক্ৰন্দন ধ্বনিত হইতেছিল। তাঁহাদের সে শোকে সাত্বনাদান দুষ্কর কাৰ্য্য। রাজা সে দুষ্কর। কাৰ্য্যও করিলেন । সংস্কারবশে লোক রাজাকে দেবতা, জানে ভক্তি করিত ; তঁাহার লোকরঞ্জন কাৰ্য্যে ও সে দিনের ব্যবহারে সেই ভক্তি শতগুণে বৰ্দ্ধিত হইয়াছিল। তাই রাজার সাত্মনাবাণী ব্যথিতের শোকবিক্ষত হৃদয়ে নিন্ধ ভেষজের মত কাৰ্য্য করিল। সে দিন সন্ধ্যার কিছু পূর্বে প্রাসাদের একজন কৰ্ম্মচারী মন্দিরের প্রধান পুরোহিতকে কি বলিয়া যাইলেন । মধ্যরাত্ৰি অতীত হইবার পর একজনমাত্র প্রহরী সঙ্গে লইয়া রাজা পদব্ৰজে মন্দিরদ্ধারে উপনীত হইলেন। পূর্বব্যবস্থামত প্ৰধান পুরোহিত দ্বারে উপস্থিত ছিলেন ; তিনি আর সকলকে বিদায় দিয়াছিলেন । রাজা প্রহরীকে বাহিরে অপেক্ষা করিতে আদেশ করিয়া পুরোহিতের সহিত প্ৰাঙ্গণে প্ৰবেশ করিলেন। প্রাঙ্গণ জনশূন্য ; প্রাঙ্গণে বিরাট দেউলের ছায়া বিরাটতর দেখাইতেছে। কি অনাহুত নীরবতা ! উভয়ে মন্দিরে প্রবেশ করিলেন। রাজ্যের কোন বিপদে দেবতাকে পূজা করা কৌলিক প্ৰথা। আজ রাজা সেই প্ৰাচীন কৌলিক প্ৰথা পালন করিতে আসিয়াছিলেন। তিনি দীন ভাবে দেবীদ্বারে হৃদয়ের প্রার্থনা লইয়া আসিয়াছিলেন। তিনি দীন ভাবে দেবতার চরণে প্রার্থনা জানাইলেন ;- সে প্রার্থনা কেবল প্ৰজার মঙ্গল-কামনা ৷ রাজা যখন মন্দির হইতে বাহির হইলেন তখন নীলাম্বরে তারকার দীপ্ত দু্যতি মলিন হুইয়া আসিতেছে। মন্দির হইতে রাজা প্ৰাসাদে ফিরিলেন ।