পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৩৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ტაS . আৰ্য্যাবর্ত । » T-er ster | কবিতা পাঠ করিবার জন্য যখন আমি আহুত হইলাম, তখন বাস্তবিকই আমার সর্বশরীর ঘৰ্ম্মাক্ত হইয়া উঠিল। আমার স্বাভাবিক সংপ্ৰতিভা ভাব কোথায় চলিয়া গেল ! আমি নিতান্তই অনিচ্ছা জানিলাম। আমার ভগিনী বলিলেন, “তবে থাক। একটা কিছু ভাল লেখা হইলে মোহিন আমাদের পড়িয়া শুনাইবে, এই সৰ্ত্তে আজ আমরা মোহিনীকে মাপ করিতে রাজি আছি। কি বল, ননী ?” উত্তরের জন্য আমি ননীর দিকে সোৎসুখ ভাবে চাহিলাম। যাহার কাব্য ও কবিতা লিখে, এবং যাহারা গান গাহিতে জানে তাহারা প্ৰথম আহবানে যুগপৎ ইচ্ছা এবং অনিচ্ছার দোলায় দুলিতে থাকে। ইচ্ছা, কবিতা পড়িয়া বা গান BDB DDDSBDBDStD DBBBBDBD BD S DB BDiYBD BDB DDDBD কুষ্ঠিত করিয়া তুলে। তখন শ্রোতার পক্ষে একটু আগ্রহ ও সনির্বন্ধ অনুরোধ বড়ই মিষ্ট লাগে। ভগিনীর এই উপেক্ষাব্যঞ্জক উক্তিতে আমি মৌখিক সাগ্ৰহ সম্মতি জানাইলেও মনে মনে সন্তুষ্ট হইতে পারিতেছিলাম না। তাহার সঙ্গিনী কিন্তু পূর্বেরই ন্যায় আগ্রহ প্ৰকাশ করিতে লাগিলেন, আমি তঁহাকে বিমুখ করিতে পারিলাম না। প্ৰথমে আমার ‘সিন্ধুল্লাস’ নামক কবিতাটি পাঠ করিয়া তঁহাকে শুনাইলাম । তাহার পর ‘জলাধি-গীতি” “জলকল্লোল” প্ৰভৃতি এক এক করিয়া তাহাদিগকে শুনাইতে লাগিলাম। নিবারের ধারার ন্যায় আমার কবিতার উৎস কি এক রহস্যের প্রভাবে স্বতঃই উৎসারিত হইতে লাগিল। আমার শ্রোতাদিগের প্রশংসোজল নেত্ৰে আমার কবিতার চরিতার্থতা দেখিতে পাইলাম। আমি এতই তন্ময় হইয়া গিয়াছিলাম যে, মধ্যাহের কড়ি মধ্যম কখন অপরাহ্রের নিখাদে গিয়া মিশিল, তাহা আমার আদৌ খেয়াল ছিল না । আমার ভগিনী বলিয়া উঠিলেন, “ভাল, ননী, আজি বুঝি আর বেড়াইতে যাইতে হইবে না ? সব কবিদের পাল্লায় পড়িয়া আমার মত অরসিকার নিরূপায় দেখছি।” তাহার সঙ্গিনী ব্যস্ত হইয়া উঠিয়া পড়িলেন। আমি আমার “দপ্তর” বঁধিতে মনোযোগী হইলাম। ননী যাইবার সময় আমার ভগিনীকে বলিলেন, “মোহিনী বাবুত সুন্দর কবিতা লিখেন ; ইনি কালে একজন বিখ্যাত কবি হইবেন, সন্দেহ নাই।” আমার ভগিনী একটু হাসিলেন। বলা বাহুল্য, আমি গলিয়া গেলাম। সেই হইতে ননী আমার কবিতার নিয়মিত সমালোচক হইলেন। আমি আমার সমস্ত কবিতাগুলিই তঁহকে শুনাইতাম, তিনিও নিঃসঙ্কোচে ও মুক্তকণ্ঠে সেগুলির প্রশংসা করিাতেন। তঁহার প্রশংসায় আমি উৎফুল্ল হাইতাম, এবং প্ৰতিভার অবশ্য প্ৰাপ্যশ্রদ্ধা, পুর্ণমাত্রায় আদায় করিয়া লইবার জন্য ব্যগ্ৰ হইতাম ।