পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৩৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


, დić, ატაi | আশার সমাধি I ३३७ যাইতে এইবার আমার সমস্ত শক্তি প্ৰয়োগ করিতে হইল। আমি উন্মত্তের মত সমুদ্রের সহিত যুদ্ধ করিতে লাগিলাম। আমার দিদিকে আমাকে চাপিয়া ধরিতে নিষেধ করিলাম। কিন্তু তিনি ভীত হইয়া পড়িয়াছিলেন, তিনি আরও দৃঢ়ভাবে আমার গলদেশ বেষ্টন করিলেন । ননীর দেহে স্পন্দন ছিল না। কতক্ষণ এইরূপ সংগ্ৰাম করিয়াছিলাম, তাহা আমার মনে নাই, কিন্তু সেই কয় মূহুৰ্ত্ত আমার পক্ষে যুগের মত বোধ হইতে লাগিল। কতকটা দূৱ আসিবার পর আমার প্রাণান্ত চেষ্টাও ব্যর্থ হইতে লাগিল । তরঙ্গের সহিত সংগ্রামে আমার হস্তপদ অবসন্ন হইয়া আসিয়াছিল। কুলের নিকটে আসিয়া আমার সংজ্ঞা লুপ্ত হইতে লাগিল। তার পর কি হইয়াছিল, তাহা আমি আর ভাল জানি না। তীর হইতে কয়েকজন নামিয়া আমার শিথিল হস্ত হইতে ননীকে ও আমার দিদিকে টানিয়া তুলিলেন, কিন্তু আমাকে ধরিবার পূর্বেই স্রোতে আমাকে অগাধ জলে ভাসাইয়া লইয়া গেল । পরে শুনিয়াছি, ঠিক সেই সময়ে নুনিয়াদের একখানি মাছ ধরিবার নৌকা ফিরিতেছিল, তাহারাই আমাকে সেই আসন্ন সলিল-সমাধি হইতে তুলিয়া লইয়া আইসে। আমার যখন জ্ঞান হইল, তখন প্ৰভাতের আলোক ধীরে ধীরে ফুটিয়া উঠিতেছিল। দিদি ও ননী আমার শয্যাপার্শ্বে দাড়াইয়া আমার মুখের দিকে চাহিয়া আছেন। আমি চক্ষুরুন্মীলন করিবামাত্রই দিদি উচ্চৈঃস্বরে কাদিয়া উঠিলেন। ননীও অঞ্চলে চক্ষু মুছিলেন। সুৰ্য্যকান্ত বাবু আসিয়া সস্নেহে আমার মস্তকে হস্ত বুলাইয়া দিলেন। আমার সুস্থ হইতে এক পক্ষ কাল অতীত হইয়া গেল। আমার অচৈতন্যবস্থায় সুৰ্য্যকান্ত বাবু ও তঁাহার কন্যা আমাদের বাড়ীতেই ছিলেন । আহারনিদ্ৰা ত্যাগ করিয়া তাহারা আমার শুশ্ৰষায় তৎপর ছিলেন। একটু সুস্থ হইয়াই তাহাদিগকে আমার কৃতজ্ঞতা জানাইবার অবসর খুজিতে লাগিলাম । কিন্তু তাহার পূর্বেই সুৰ্য্যকান্ত বাবু অশ্রীপুর্ণলোচনে, তাহার কন্যার জীবনরক্ষার জন্য আমাকে যথেষ্ট ধন্যবাদ দিলেন। তাহার সে আবেগপুৰ্ণ শ্ৰদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা দেখিয়া বাস্তবিক মনে হইল, আমার ক্ষুন্ন গৌরব সত্য সত্যই পুনরুজ্জীবিত হইল। এক দিন জ্যোৎসা-পুলকিত সন্ধ্যায়, ননী আমার শয্যাপার্শ্বে বসিয়া মোজা সেলাই করিতেছিলেন, তখনও আমি রুগ্নাশয্যা পরিত্যাগ করিতে পারি নাই। আমি একমনে তাহার অঙ্গুলিগুলির নিপুণ গতি দেখিতেছিলাম। সহসা ননী “উঠ” বলিয়া ছুচ ফেলিয়া দিলেন। অঙ্গুলির একস্থানে একটু রক্ত দেখা দিল। আমি