পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈশাখ, ১৩১৭ ৷৷ চিতোর। \ 8ዓ দুৰ্গমধ্যে নীলকণ্ঠের মন্দির। এই পুরাতন শিব মন্দিরটির উপর এ প্রদেশের লোকের অচলা ভক্তি -অনেক দূর হইতে লোক , নীলকণ্ঠ দৰ্শন করিতে আইসেন। সন্মুখ যুদ্ধে প্ৰাণত্যাগী বীরগণের সমাধির পার্শ্ব দিয়া যাইতে যাইতে রাণা কুম্ভের শ্বেতপ্ৰস্তুর-নিৰ্ম্মিত জয়স্তম্ভের নিকট আসিয়া °ख्रिव्गांभ । অতি উচ্চ স্তম্ভ, নয় তলে বিভক্ত-স্তম্ভের গাত্রে নানাবিধ সুন্দর মূৰ্ত্তি উৎকীর্ণ রহিয়াছে। সমরে বার বার মুসলমানগণকে পযু্যদন্ত করিয়া কুম্ভ এই কীৰ্ত্তিস্তম্ভ স্থাপন করেন। নিকটে জৈনদিগের দ্বারা নিৰ্ম্মিত একটি ক্ষুদ্র স্তম্ভ, দুৰ্গমধ্যে একদা জৈনগণের সমৃদ্ধির পরিচয় স্বরূপ দণ্ডায়মান। চিতোরাধিষ্ঠাত্রী করালী কালীর মন্দিরটি প্রায় ভূমিসাৎ হইয়া গিয়াছে। ইনিই এককালে রাজপুত-রক্ত-পিপাসায় অধীরা হইয়া বলিয়াছিলেন “মৈ ভুখা হুঃ ! মৈ ভুখা হুঃ !” নিকটবৰ্ত্তী সরোবরের তীরে বসিয়া দেখিতে লাগিলাম, ভগ্ন প্রস্তররাজির উপর ময়ুর পেখম খুলিয়া বেড়াইতেছে! মহারাণা কুম্ভের মহিষী, হরিভক্তি পরায়ণ, মীরা বাইয়ের প্রতিষ্ঠিত শ্ৰীকৃষ্ণের মন্দিরটি এখনও সুরক্ষিত। কয়েকটি রাজপুত স্ত্রী ও পুরুষ অৰ্চনা করিতেছিলেন। মন্দিরের শীতল ছায়ায় কিছুক্ষণ উপবেশন করিলে মন শাস্তিরসে পূর্ণ হইল। কিয়দ্ধারে মহারাণী পদ্মিনীর প্রাসাদ ; সরোবরের মধ্যে সুন্দর, অতি বৃহৎ অট্টালিকা। উদয়পুরের মহারাণা কর্তৃক সম্প্রতি ইহার জীৰ্ণ-সংস্কার হইয়াছে। এই প্ৰাসাদের সম্মুখে বসিয়া মেবারের ইতিহাসের কত কথা ভাবিতেছিলাম। মীরা ও পদ্মিনী রাজস্থানের দুইটি অতুলনীয় রমণীরত্ন। একজন রাজরাণী হইয়াও সন্ন্যাসিনী-মহাবীর কুম্ভের সৈন্য কোলাহলের প্রতি কৰ্ণপাতমাত্র না করিয়া হরিনামামৃত পানে বিভোরা । আর এক জন মূৰ্ত্তিমতী ক্ষত্ররাজলক্ষ্মী--ক্ষত্ৰিয়গণকে কৰ্ত্তব্য-পালনে প্রোৎসাহিত করিতেছেন। এবং আৰ্য্য। রমণী যাহাতে সতীত্বের মৰ্য্যাদা বিশ্বত না হয়েন সে বিষয়ে যত্নবতী রহিয়াছেন। উভয়েই ধাৰ্ম্মিকশ্রেষ্ঠা, তবে দুই জনের দুই বিভিন্ন পন্থা । এক জন মূৰ্ত্তিমতী ভক্তি, আর এক জন দেহধারিণী কৰ্ত্তব্য বুদ্ধি। ভক্তিযোগের ও কৰ্ম্মযোগের এরূপ মনোহর দৃষ্টান্ত জগতের ইতিহাসে সুলভ নহে। রাজপুতগণের সমকক্ষ বীর গ্রীসে ছিল, রোমে ছিল এবং আরও কোন কোন স্থানে ছিল, স্বীকার করি।-কিন্তু মেবারের রমণীবৃন্দের ন্যায় শৌৰ্য্যবতী রমণী কোন দেশে কোন কালে ছিল বলিয়া ত মনে