পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (প্রথম বর্ষ).pdf/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৈশাখ, ১৩১৭ । বঙ্গীয় নদনদীর জীবন সংগ্ৰাম । ( S) ' প্ৰকাশে যত্নবান থাকিবে । বন্যার সময় নদীর পরাক্রম নিম্নস্থ প্রদেশেই সমধিক মাত্রায় প্ৰকাশ পাইয়া থাকে ; কারণ খরস্রোতে উপর হইতে জল আসিয়া প্রবলবেগে নিম্নে জমিতে থাকে। ১৮৩৮ খৃঃঅব্দে গঙ্গা ও ব্ৰহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থলের নিকট গঙ্গাকে এমন ভাবে সন্ধুচিত হইতে হইয়াছিল যে গোয়ালন্দের নিকট অনেক স্থলে লোকে পদব্ৰজে পার হইতে পারিত। এই কারণেই গরাই স্বল্পতোয় “ক্ষুদ্র নদী হইতে গভীর ও প্রশস্ত প্রবাহিনীতে পরিণত হইয়াছে । জল বদ্ধ হইয়া অতিরিক্ত জল গারাই নদী-গর্ভে প্রবাহিত হইয়া কলিকাতা হইতে উত্তরে গঙ্গাতীরবত্তী প্ৰদেশসমূহে যাতায়াতের বিলক্ষণ সুবিধা করিয়া দিয়াছে। আবার এই রূপ নূতন বিষ্ময়কর ঘটনার সংঘটন অসম্ভব নহে। কালে ভাগীরথীর জল একেবারে নিঃশেষিত হইয়া জলাঙ্গীর নিকট হইতে অন্যদিকে প্ৰধাবিত হইতেও পারে। এই ঘটনা ঘটিলে বর্তমান বঙ্গে কি স্বপ্নাতীত পরিবর্তন ঘটিবে ! ত্রিস্রোতাকে পুনর্বার যদি গঙ্গা-গর্ভে প্ৰবাহিত করিতে পারা যায় তাহা হইলে কতকটা সুফল ফলিতে পারে। কিন্তু স্বভাবের কার্ষ্য নিয়ন্ত্রিত করা • অধিকাংশ স্থলেই মানবের বুদ্ধির ও শক্তির পক্ষে অসম্ভব। তবে বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ প্ৰকৃতির সহিত সংগ্ৰাম করিয়া জয়লাভের আশাও করিতেছে । শ্ৰীকালীকুমার দত্ত ।