পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S S o 曦 আশুতোষ-স্মৃতিকথা প্রতি তাহার প্রসন্নতা সৰ্ব্বজন-বিদিত। ইতিহাসে জানা যায়, যুদ্ধজয়ী সেনাপতিকে প্রাচীন রাজারা নিজ হস্তে তাম্বল দিতেন ; নবদ্বীপের টােলের বিজয়ী পণ্ডিতদিগকে কৃষ্ণনগরের রাজার সামান্য পুরস্কার দিতেন, কিন্তু সেই সকল সামান্য প্ৰসাদ যে তৃপ্তি ও আনন্দ দিত, তাহা গ্ৰহীতারা চরম পুরস্কার বলিয়া মনে করিতেন । কোন বই লিখিয়া ছাপা হওয়ার পর গ্রন্থকারেরা তঁহাৱ নিকট যাইয়া যে উৎসাহ পাইতেন, তাহা তাহদের কাছে চিরস্মরণীয় হইয়া থাকিত । সুধী-সমাজে পুস্তকের প্রশংসা হইলে, তাহা আশুবাবুকে দেখাইতে পারার সৌভাগ্যের জন্য র্তাহারা লালায়িত হইতেন ;- সৌভাগ্যই বটে,- সেই দুই বিরাটু গুস্ফের মধ্য হইতে প্ৰাণোজিল, শুভ্ৰ হাসির ছটা,—তাহা দেখিলে মনে হইত সমস্ত পরিশ্রম সার্থক। কত বড় লোককে দেখিলাম,- বই উপহার দিতে যাইয়া গ্ৰন্থকার তঁহার মুখে শুনিয়াছেন,-“বাই রাখিয়া যান, পড়িয়া দেখিব।” তেঁাহাদের उछे গাম্ভীৰ্য্যের পাশ্বে দাড়াইয়া গ্ৰন্থকার বেশী বাক্য ব্যয় করিতে সাহসী হ’ন না। কিন্তু আশুবাবু বই হাতে করিয়া স্বীয় বাগানের বহু ঈপিসত কলমের চারায় উৎপন্ন প্ৰথম ফলটি হাতে পাইলে উদ্যান-স্বামী যেরূপ প্ৰফুল্ল হ’ন, সেইভাবে তিনি গ্ৰন্থখানিকে অভিনন্দিত কলিয়া লাইতেন । সেই অভিনন্দন লেখকের মনে যে প্রেরণা দিত, তাহ আবর্ণনীয়। বঙ্গদেশীয় সমস্ত লেখক। তঁহাকে কি চক্ষে দেখিতেন, তাহা ইহা হইতেই বুঝা যাইবে যে, ১৯০৪ হইতে ১৯২৪ খৃষ্টাব্দ পৰ্যন্ত উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে তঁহার ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধের সময় ছোট-বড় ইংরাজী, সংস্কৃত ও বাঙ্গলা এত পুস্তক গ্ৰন্থকারেরা তাহার নামে উৎসর্গ করিয়াছিলেন যে, অন্য কোন বাঙ্গালী বড়লোকের ভাগ্যে তাহার দুই অংশও লাভ হয় নাই। আমাকে যখন “বঙ্গভাষা ও ইতিহাস’ লিখিবার ভার দিয়া “রিডার' নিযুক্ত করিলেন, সেদিন আমি বলিয়াছিলাম—“আমি বহুদিন ইংরাজী লিখি নাই, ইংরাজী লিখিতে পারিব তো ?” তিনি হাসি-মুখে বলিলেন,- “পরিবেন।” সেই প্ৰসন্ন মুখের হাসি এখনও ভুলিতে পারি নাই। আমার লেখা একটি ইংরাজী লাইন তিনি দেখেন নাই, আমি স্বয়ং দ্বিধাপন্ন, অথচ তিনি বলিলেন-“পারিবেন।” তিনি কি আমার শক্তি আমি অপেক্ষা বেশী বুঝিয়াছিলেন ? অন্য কেহ হইলে বলিতেন—“চেষ্টা করিয়া দেখুন, পারেন