পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


و ۹۹۰ htt۹stia দুইটার সময়ে স্পেশাল ট্ৰেণখানি যেন মন্থরগতিতে, বিষঃ চক্রবর্তনে হাওড়া । ষ্টেশনে প্ৰবেশ করিল। - লৌহ-শকটের চক্রগুলি যেন অগণিত নর-নারীর হৃদয় নিৰ্ম্মমভাবে পিষিয়া দুঃসহ আঘাতে সকলকে হত-চেতন করিয়া সহসা থামিল। সে যে | কি অবর্ণনীয় হৃদয়-বিদারক দৃশ্য! শবদেহ স্কন্ধে করিয়া র্যাহারা নামাইলেন, তঁহাদের মধ্যে দেখিলাম ডাঃ যতীন মৈত্রকে এবং ধূলি-ধূসর, মলিন •द्रिघ्छ অশ্র-প্লাবিত গণ্ড, সুদৰ্শন প্রমথনাথকে। তিনি বাজাহতের ন্যায় আবিষ্ট, তঁাহার চন্দ্রমুখখানির সুন্দর অধর-যুগা ক্ৰন্দনের বেগে ঈষৎ কম্পিত। এদিকে বাহকগণের কঁধের উপর কুসুম-মাল্যের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে-আবৃতদেহ আশুতোষের মস্তকটি ঝুলিয়া পড়িয়াছে। যে মুখের দাপটে দম্ভোলি-নিক্ষেপীর । দম্ভ যেন স্তব্ধ হইত, সে মুখ আজ মন্ত্ৰ-সিদ্ধ শক্তি হারাইয়া ফেলিয়াছে ; যিনি হাওড়া ষ্টেশনে দাড়াইলে মনে হইত মৈনাক-মন্দারকে অতিক্রম করিয়া তাহার আশুতোঁধের শবদেহ শিরোদেশ উৰ্দ্ধে উঠিয়াছে ; র্যাহার পাদ-ক্ষেপে দ্বারভাঙ্গা-গৃহের সোপানাবলী প্ৰকম্পিত হইত,-যেন মন্ত্রশক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলরব স্তব্ধ ইষ্টয়া যাইত ; যাহার কণ্ঠ-স্বরে কৰ্ম্মীর কৰ্ম্মের তৎপরতা বাড়িয়া যাইত ; যিনি যেখানে গিয়াছেন, রাজযোগ্য আদর অভ্যর্থন লাভ করিয়াছেন ; বাঙ্গালীদের মধ্যে একমাত্র র্যাহাকে সাহেবের ভীতির চক্ষে দেখিতেন ; সিনেটহলে শত সভায় দৃষ্ট হইয়াছে যে, তাহার কথাই শেষ কথা এবং তঁাহার কথার উপর আর কাহারও কথা চলিত না ; যাহার মন্ত্র-সিদ্ধ বাক্য পাখোয়াজের বোলের ন্যায় ওজস্বী এবং সুগম্ভীর স্বরে ধ্বনিত হইত ; যিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে ভাঙ্গিয়া চুরিয়া নূতন করিয়া গড়িয়াছিলেন ; যে শক্তিশালী পুরুষবারের কটাক্ষ*ীতে মাধব-বাজারের ছোট-বড় দোকানপাট, মেছুনীদের কলরব ও খরিদারগণের তুমুল গণ্ডগোল কুয়াসার ন্যায় বিলীন হইয়া সেখানে গগনস্পশী, অদ্ভুত বিষ্ঠায়তনের ভিত্তি প্রোথিত হইল ; সেই জ্ঞান-ধৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম-যোগের অবতার, শত শত বৎসরে যাহার মত একটি লোক অবতীর্ণ হ’ন ; ক্রমবিলীয়মান বাঙ্গালী জাতির মধ্যে যেরূপ লোকের পুনরাবির্ভাব সন্দেহ-স্থল ; যিনি পরীক্ষা-শালায় সর্বপ্রথম,-সিনেট-গৃহে সৰ্ব্বপ্রথম,-গভর্ণমেণ্ট কাউন্সিলে শিক্ষাসম্বন্ধীয় সমস্ত তর্কে সর্বপ্রথম, যিনি সাধারণের মধ্যে দাড়াইলে সর্বাপেক্ষা বিস্ময়-পূর্ণ