পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R at R আশুতোষ-স্মৃতিকথা হইয়াছিলাম, কিন্তু আমাদের অভাব যে কত বড় বিরাটু, তাহা ভাল করিয়া উপলব্ধি করিতে সময় লাগিবে। টোকিওর ভূমিকম্পের পর ক্ষতির পরিমাণ অনুভব করিতে জাপানের অনেক দিন লাগিয়াছিল। প্ৰথমতঃই আমাদের বীজদগ্ধ, আড়ষ্টপ্ৰায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে পড়ে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যেভাবে গড়িয়া তুলিতে কল্পনা করিয়াছিলেন, সেই কল্পনার পরিণতি দিবার শক্তি আর কাহার আছে ? অৰ্জ্জুন গাণ্ডীব ফেলিয়া গিয়াছেন, ইহাতে জ্যা দেওয়ার যোগ্যতা আর কাহার বাহুতে আছে ? নারদের বীণায় স্বৰ্গীয় সঙ্গীত নারদ ভিন্ন কে জাগাইবে ? কলিকাতা বিশ্ববিদ্যাশাল ছিল তঁাহার মানসী কন্যা, তাহার প্রাণের শোনিতে এই বিদ্যাশালা পুষ্ট হইয়া অপূর্ব বিজয়শ্ৰী ধারণ করিয়াছিল। বঙ্গীয় ভারতী আর কাহার বাহু আশ্রয় করিয়া বঙ্গদেশে দাড়াইবেন ? বঙ্গের সরস্বতী-পূজা বুঝি প্রকৃত পক্ষে এখন হইতে উঠিয়া গেল । বিশ্ববিদ্যালয়টি তিনি ভারতবর্ষের মূল বিদ্যাকেন্দ্রে পরিণত করিবার কল্পনা করিয়াছিলেন। শুধু তােহাঁই নহে, এখানে বিদ্যার তিনি যে সমারোহপূর্ণ উৎসবের সৃষ্টি করিয়াছিলেন, তাহাতে পৃথিবীর সর্বজাতির ডাক পড়িয়াছিল। এই বিশ্ব-বিদ্যালয় হইবে প্ৰাচ্যবিদ্যার মহাকেন্দ্ৰ, এই ছিল তাহার সংকল্প। নানারূপ অভাব-অভিযোগ, দ্বেষ-হিংসা ও অন্তরায়কে অগ্রাহ করিয়া,-তৰ্জনী-হেলনে নিরস্ত করিয়া আমাদের এই বিদ্যাপীঠ তাহার আদর্শের দিকে অগ্রসর হইতেছিল। প্ৰাচীন কীৰ্ত্তি-উদ্ধার ও প্ৰাচ্য ভাষার অনুশীলনের জন্য তিনি পৃথিবীর সমস্ত শিক্ষিত-মণ্ডলীকে আহবান করিয়াছিলেন । রুষিয়ার স্মৃতি-শাস্ত্রের অধ্যাপক বিশ্ব-বিশ্রুতকীৰ্ত্তি পল ভিনোগ্রেডফ', এই নিমন্ত্রণে এখানে আসিয়াছিলেন। ফরাসীর প্রাচ্যবিদ্যার শিরোমণি সিলভ্যান লেভি, জাৰ্ম্মাণির উইন্টারনীজ ও ওল্ডেনবাৰ্গ, বিলাতের প্রাচ্য-বিদ্যার কল্পতরু টমাস প্রভৃতি কত দেশেরই পণ্ডিতগণ আশুতোষের নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়া কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহদের পদ-রজ; দিয়া গিয়াছেন ! এদিকে অধ্যাপকগণের মধ্যে জাপানী, চৈনিক, দ্রাবিড়ী, সিংহলীজ, মারহাট্টা, টিবেটান প্ৰভৃতি নানা দিগদেশাগত পণ্ডিতেরা তো আমাদের বিদ্যাপীঠ অবিরত কলরবে মুখরিত করিতেছেন। কনভোকেশনের সময় সে কি দৃশ্য ! কাহারও উষ্ণীষে রামধনুর বর্ণ খেলিতেছে, কাহারও কৃষ্ণ-টুপি মন্দিরের চূড়ার মত উচু হইয়া আছে, অপর দিকে পাৰ্বত্য লামার রোমাবৃত শিরোভূষণের পাশ্বদেশ চুম্বন করিয়া সিরাজগত মৌলভির প্রকাণ্ড পাগড়ীর স্বর্ণখচিত রেখাগুলি দেখা যাইতেছে। আমাদের এই বিদ্যাশালাকে তিনি সৰ্ব্বজাতির মিলনস্থান জগন্নাথ-ক্ষেত্রে পরিণত করিয়াছিলেন। দ্বারভাঙ্গা-গৃহে যেদিন তঁহার প্রস্তর