পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিশিষ্ট Q (? Ko মুষ্টি উন্মোচিত হয়, তখন বাঙ্গলার লাট কারমাইকেল সাহেব বলিয়াছিলেন—“কোন একটা জিনিষকে বিরাটু কল্পনায় আয়ত্ত করিবার শক্তি আশুতোষের আছে, কিন্তু সেই কল্পনা কাৰ্য্যে পরিণত করিবার শক্তি অনেকের নাই, আশুতোষের তাহাও আছে।” একাধারে কবি ও সাধকের ন্যায় বিরাটু কল্পনা, অপর দিকে মহাকৰ্ম্মীর বিশাল কাৰ্য্য-কুশল বাহুর শক্তি—এই দুই গুণের অপূর্ব মিলনে আশুতোষ বরেণ্য হইয়াছিলেন। তঁহার সমকক্ষ কেহ জগতে আছেন কি-না, তাহা আমরা জানি না । শত শত ভূৰ্জপত্র ও প্রাচীন কাগজে লিখিত পুথি তিনি সমস্ত এসিয়া হইতে সংগ্ৰহ করিয়া আসিতেছিলেন। অসংখ্য তির্বতীয় পুথি, জাপানী পুথি, ৭০০০ বাঙ্গলা প্রাচীন পুথি, দ্বারভাঙ্গা-গৃহের কোণায় কোণায়ু পড়িয়া রহিয়াছে, তাহদের জন্য আলমারী তৈয়ারি হইতেছে। ইহা ছাড়া কত যে বিরল, বহুমূল্য পুস্তক তিনি সংগ্ৰহ করিয়াছেন, ইজিপ্টের প্রাচীন মূৰ্ত্তির ছবি, কত দেশের মানচিত্র, অতি দুর্লভ সংস্কৃত পুথি যে কত, তাহার অবধি নাই। প্ৰাচ্য বিদ্যা-শিক্ষার্থীকে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসিতে হইবে, এইখানে না আসিলে তাহার শিক্ষা পূর্ণ হইবে না, এইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে গড়িয়া তোলা ছিল তঁহার সংকল্প । কেবল অধ্যাপক নহে, তাহার উদার সাৰ্ব্বভৌমিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়া কত বিভিন্ন প্রদেশ হইতে যে কত ছাত্র কলিকাতায় আসিয়া অধ্যয়ন করিতেছে, তাহদের সংখ্যা গণনা করিলে বিস্মিত ३ट्रेड, ट्रेग्न । তিনি ইহার মধ্যেই প্ৰাদেশিক ভাষা-অনুশীলনের যে সুবিধা করিয়া দিয়াছেন, তাহা অন্যত্র দুর্লভ। কেহ যদি ভারতীয় কোন প্ৰাদেশিক ভাষায় তুলনা-মূলক চৰ্চা করিতে চান, তবে এই স্থানে নানা দেশীয় অধ্যাপক ও ছাত্ৰ-মণ্ডলীর সহিত আলোচনা করিয়া যে সকল তথ্য সংগ্ৰহ করিতে পরিবেন, পৃথিবীর অন্য কোথায়ও তিনি সে সুবিধা পাইবেন কি-না সন্দেহ। আশুতোষের শত শত সমালোচক ছিল । কিন্তু বাজারে সমালোচকের অভাব কোন কালেই হইবে না। আমরা আর একটি মাত্র স্যার আশুতোষ চাই, কালে হয়ত বাঙ্গালী জাতি টিকিয়া থাকিলে আমরা তাহার মত আর একজন পাইতে পারিব, কিন্তু সে ৩০০, কি ৪০০ বৎসর পরে, তাহা কে বলিবে ? আমাদের নিগৃহীত বঙ্গভাষাকে তিনি উচ্চ শিক্ষার কক্ষে স্থান দিয়াছেন। সে দিন পৰ্য্যন্তও তো বিলাত-ফেৰ্ত্তা কোন কোন বাঙ্গালী তাহার ছেলেরা বাঙ্গলা জানে, একথা শুনিলে লজিত হইতেন, আয় রাখিয়া তাহাদিগকে হিন্দী শিখাইতেন। উচ্চ শিক্ষার কেন্দ্রে এই অবজ্ঞাত বঙ্গভাষাকে তিনি অতি সাবধানে ধীরে ধীরে প্রবিষ্ট করাইয়াছেন। পাছে সহসা এই ভাষাকে অনেকটা অধিকার দিলে প্ৰবল প্ৰতিপক্ষীয়েরা