পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


affa &Vか○ কে তঁাহাকে বলিয়াছিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সামান্য মতভেদ-উপলক্ষ্যে সংস্কৃত কলেজের অধ্যাক্ষের এতবড় একটা উচ্চ পদে ইস্তফা দিতে ? সে পদ বিশ্ব-বিশ্রাত পণ্ডিত ই, বি, কাউল প্ৰভৃতি অলঙ্কত করিয়াছিলেন, তখনকার দিনে একজন টুলো ব্ৰাহ্মণের পক্ষে তাহা কি কম গৌরবের সামগ্ৰী ? কিন্তু ভ্ৰক্ষেপে মনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হইয়া গেল, তিনি কাজটি ছাড়িয়া নিঃস্ব হইলেন । সত্যের মৰ্য্যাদারক্ষার জন্য র্তাহার কোন বিপদই ছিল না, যাহা অসহনীয়,-কোন কাজই ছিল না, যাহা অসাধ্য । t এই মহাপুরুষের দানের কথা আর কি বলিব ? তাহার গৃহে যে দানের এই নিত্য মহোৎসব চলিতেছিল, তাহার মধ্যে ব্ৰাহ্মণ-শূদ্র ছিল না, শত্ৰু-মিত্র ছিল না ; চন্দ্রের জ্যোৎস্নার ন্যায়, সুৰ্য্যের কিরণের ন্যায় সেই দানের পরিবেশন সর্বত্ৰ হইত। সেই দানের তালিকা দেওয়া নিম্প্রয়োজন ; তাহার মোট পরিমাণ দিতে গেলে হয়ত কোন কোন বড় রাজার তুলনায় তাহা অল্প বলিয়াও মনে হইতে পারে । তিনি রাজেন্দ্র মল্লিক কিংবা তারক পরামাণিকের মত ধনশালী ছিলেন না, হয়ত শেষোক্তের দানের বার্ষিক পরিমাণ তঁাহার হইতেও বেশী ছিল, কিন্তু এ বিষয়টি সে দিক দিয়া মোটেই বিচাৰ্য্য নহে,—এই বিচারের তুলাদণ্ড মৰ্ম্মানুভূতি, সহৃদয়ত ও পরদুঃখকাতরতা । বিদ্যাসাগরের মৃত্যুর কিছু পূর্বে হাইকোটের উকিল শিবাপ্ৰসন্ন ভট্টাচাৰ্য্য তঁহাকে দেখিতে গিয়াছিলেন । তিনি একটি প্ৰবন্ধে লিখিয়াছেন,-বিদ্যাসাগর মহাশয়কে অত্যন্ত পীড়িত দেখিয়া তিনি তঁাহাকে বলিয়াছিলেন—“শুনিয়াছি কারমাটারে আপনার শরীর ভাল থাকে, সেখানে তো আপনার বাড়ী আছে, আপনি সেখানে কিছুদিন থাকিলে আপনার শরীর শোধরাইতে পারে।” এই কথা শুনিয়া তাহার মুখ মুহুৰ্ত্তকাল বর্ষণোন্মুখ মেঘের মত হইল। বিদ্যাসাগর বলিলেন—“সেখানে থাকিবার মত আমার অর্থ নাই।” শিববাবু আশ্চৰ্য্যান্বিত হইয়া বলিলেন—“সে কি কথা ? সেখানে আপনার ব্যয়-বাহুল্য হইবার তো কোন কারণ দেখি না ।” এই কথায় বিদ্যাসাগর কঁাদিয়া ফেলিলেন, অশ্রু-নিরুদ্ধকণ্ঠে বলিলেন- “সে জায়গায় অসংখ্য সাঁওতালের বাস,-তােহাঁদের এক একজন প্ৰতি বেলায় এক সের চালের ভাত খাইতে পারে,- এমন দুভিক্ষ লাগিয়াছে যে, তাহারা এক ছটাক ভাতও সারা দিনে পায় না। শিববাবু, আমি শ্নাত শত সাঁওতালের অনশন-ক্লিষ্ট মুখ ও তাহাদিগকে আৰ্ত্ত ও অভুক্ত দেখিয়া এই ক্ষুৎপিপাসুদের সম্মুখে নিজে কিরূপে ভাত খাইব ? এত অর্থ কোথায় পাইব, যাহাতে তাহদের দুঃখ নিরসন করিব ? আমি কোন প্ৰাণে সেখানে যাইব ?” এই বলিয়া মুমূর্ব বিন্যাসাগর কঁাদিতে লাগিলেন। লক্ষ টাকা কেহ দান করিতে পারেন, কিন্তু এইরূপ প্ৰাণ কে দিবেন ? এই প্ৰাণবন্ত, মূৰ্ত্ত দয়ার অবতার মোট কত টাকা