পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


RvispVo আশুতোষ-স্মৃতিকথা একটিও বুটা কথা, অনধিগম্য কোন আদর্শের প্রতি ইঙ্গিত বা পরা নুকরণে সাফল্য দেখাইতে যাইয়া তিনি একটি বাক্যও প্রয়োগ করেন নাই। এক कथाम्न उँशन्न दारु ও অর্থ পরস্পরের সঙ্গে সম্পাক্ত ছিল এবং অনাড়ম্বর অথচ তদীয় হৃদয়ের अप्रi१५, জীবন্ত ভাষা গুরুতর কৰ্ম্মের অগ্রদূত-স্বরূপ কোন আসন্ন আদর্শের প্রতি লক্ষ্য ঝাৰি এবং তদনুগামী হইত। যখন অসহযোগ-আন্দোলনের প্রবল বন্যায় কলিকাতার ছাত্রসমাজ বানচাল হইয়া যাইতেছিল এবং সিনেট-গৃহের দ্বার-দেশে তরুণগণ পরস্পরের কর ধারণ করিয়া এরূপভাবে শায়িত ছিল যে, সেই সম্মিলিত বালক-বৃহ ভেদ করিয়া গৃহ একেবারে দুস্তপ্ৰবেশ্য হইয়া পড়িয়াছিল, তখন আশুতোষ সেখানে আসিয়া ছাত্রগণকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন,-“তোমরা কি চাও ?-স্বদেশী বিশ্ববিদ্যালয় ? আমি আজীবন তোমাদের শিক্ষার জন্য পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করিয়া আসি|ছি, তোমরা নিজেদের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় চাও, আমি যে তাহাই তোমাদিগকে দিয়াছি ; তোমরা একবার আমার দিকে চাও । বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসন-পরিষদে এখন প্ৰধান্য কাহাদের ? তোমরা সিনেট-সিণ্ডিকেটের সভা-সমিতিগুলি ভাল করিয়া লক্ষ্য করিয়া দেখ,-এখানে বাঙ্গালীই কৰ্ত্তা, বাঙ্গালীরা যাহা করে, তাহাই হয় ; এ বিশ্ববিদ্যালয় বাঙ্গালীদের, এবার স্বভাব-ক্রমেই বাঙ্গালীর বিশ্ববিদ্যালয় বাঙ্গালীর হাতে আসিয়া পড়িয়াছে,-এখানে বাঙ্গালীরা অসংখ্য টাকা দিয়াছেন এবং সর্ববিষয়ে ইহা বাঙ্গালীর নিজস্ব হইয়াছে। বাঙ্গালীর হাতে-গড়া, বাঙ্গালীর শাসনে নিয়ন্ত্রিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তোমরা ভাঙ্গিতে চাওঁ কি অপরাধে ? আমাদের সভা-সমিতি, আমাদের কৰ্ম্ম-শালার কৰ্ম্মী ও অধ্যাপকমণ্ডলীদেয় প্ৰতি লক্ষ্য কর,-এই বিদ্যায়তনের সদস্যগণ ও পরীক্ষকগণের দেশীয় পরিচ্ছদ,-“এখানে এখন আর বিদেশী প্রভাব নাই । আমরাই আমাদের লোকজন, আমাদের স্বাধীগণ দ্বারা এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করিতেছি। আমি এখানকার একজন কৰ্ম্মী, আমার পোষাক-পরিচ্ছদ দেখ, আমি অবিরত যুদ্ধ ঘোষণা করিতেছি কাহাদের বিপক্ষে ? যাহার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের, এই জ্ঞান-মন্দিরের স্বাধীনতা ধ্বংস করিতে চায়, যাহা৷ শিক্ষার দীপ নিভাইতে চায়, তাহদের বিরুদ্ধে। এই মহাবিদ্যাপীঠ-রক্ষার জন্য আমাদেরই পালিত, আমাদেরই ঘোষ, আমাদেরই খয়রা মুক্ত হস্তে আশাতীত দান করিয়াছেন। তোমরা কি তঁহাদের উদার হৃদয়ের দেশপ্ৰেম-প্ৰাচুৰ্য্যের অবমাননা করিবে ? তঁহাদের প্রদত্ত অর্থ আমাদের জাতি-গঠনের উদ্দেশ্যে আমাদেরই হন্তে ব্যয়িত হইতেছে । তোমরা বালক, তোমরা একজন নেতা চাও, যিনি তোমাদিগকে স্বদেশ" প্রেম ও স্বরাজ দিবেন। ভাল করিয়া আমাকে দেখ, আমিই উহা তোমাদিগকে দিতে প্ৰাণান্ত চেষ্টা করিতেছি, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বরাজের অঙ্গ বলিয়া গ্ৰহণ করা। তোমরা যাহাকে চাও, আমি সেই ব্যক্তি, স্বরাজের অগ্রদূত -তোমাদের এত কাছে