পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


စfဒြာ၊ffi) RV,7 নিঃশেষ হইয়া যায় নাই, তিনি এমন দান করিয়াছেন, যাহার ফল। বৰ্ত্তমান ভারতবাসী ও তাহাদের ভবিষ্য বংশধরেরা তুল্যরূপেই লাভ করিয়া ধন্ত হইবে। বাঙ্গলা ভাষা বিদ্যাসাগর ও আশুতোষ উভয়ের নিকটেই ঋণী ; কিন্তু এক জন তাহার হাতে-কলমে কাজ করিয়া জাতীয় শিক্ষার মূলধন বৃদ্ধি করিয়াছেন,-অপর ব্যক্তি এই ভাষার জন্য যাহা করিয়াছেন, তাহার ফলে বঙ্গভারতীর পূজা দেশের সর্বত্র প্রচারিত হইবার সুযোগের সৃষ্টি হইয়াছে। বিদ্যাসাগর-লিখিত রচনা পড়িয়া আমরা লাভবান হইয়াছি, আমাদের বংশধরেরাও হইবে, তাহা বাঙ্গলা গদ্য-সাহিত্যের ভিত্তি গড়িয়া গিয়াছে। কিন্তু আশুতোষ বঙ্গভাষার জন্য যে আসন গড়িয়াছেন, তাহাতে ভবিষ্যতে বহু ঐতিহাসিক, বহু কবি, বহু বৈজ্ঞানিক শিক্ষা-ক্ষেত্রে উপকৃত হইবেন, বাঙ্গলা ভাষা ও সাহিত্য ধাপে ধাপে উন্নততর হইবে । মোট কথা, বিদ্যাসাগরের দর্শনকামী তীর্থযাত্রীকে তঁাহার স্বীয় মন্দিরে যাইয়া নিভৃতে দেখিতে হইবে ; কিন্তু আশুতোষের বল শত শত বাহুর মধ্যে, তাহার জ্ঞান শত মস্তিষ্কে, তাহার শিক্ষার ফল শত প্ৰতিষ্ঠানের মধ্যে আবিষ্কার-যোগ্য এবং তাহা বৰ্ত্তমান ও ভবিষ্যৎ জুড়িয়া পড়িয়া আছে। কে বড়, কে ছোট, জানি না । এখানে তুলনা-মূলক আলোচনা বৃথা। আমরা মন্দিরের বরাভয়দায়ী হস্ত, সদায়হাস্যবিমণ্ডিত, রুদ্র ভৈরবরূপী দেবতাটির উপাসক এবং যে সুৰ্য্যদেবতা অনধিগম্য উৰ্দ্ধস্থানে থাকিয়া বৃহৎ জগতে রশ্মি বিতরণ করিয়া ধারণীকে ফুলফল-মণ্ডিত করিয়া সংসার-ক্ষেত্রে শতরূপে জীবনের সক্রিয় রূপ দেখাইতেছেন, সেই ধ্বাস্তারি, তমোমু দেবতাটিরও উপাসক, কে বড়, কে ছোট, তাহা জানি না। একজন উচ্চচূড় মন্দিরবাসী, তিনি একক-অপর ব্যক্তি নিৰ্ম্মাতা, শত শত মন্দিরের গঠনকারী, শত হস্তের মধ্যে নিরন্তর তাহার কাৰ্য্য সমাপ্ত হইতেছে, বিদ্যাসাগর আরম্ভ হইয়া হয়ত শেষ হইবেন, আশুতোষ যাহা আরম্ভ করিয়াছেন, তাহার পরিসমাপ্তি বহু দূরে। স্ত্রীলোক আমাদের শাস্ত্ৰে শক্তিরূপে কল্পিত, এই নারী-শক্তি এদেশের লোকের কাছে মাতৃশিক্তি। আমাদের সমাজে নারীশক্তি মনোরঞ্জিনী হইয়া যতটা দেখা দিয়াছে, তদপেক্ষা শতগুণে অধিক পালনী-রূপে আত্মপ্ৰকাশ করিয়াছে। স্ত্রীলোকের এই পালনীশক্তিই মাতৃত্ব । শাক্তদের পূজা-বিধানে শক্তিবৃত্যুহ মাতৃকারূপে প্রতিষ্ঠিত। এদেশ সর্বত্র মা, মা-রবে। আকুল,-শতশত ব্যাকুল কণ্ঠে, শত সাধকের মুখে মাতৃস্তব ধ্বনিত হইতেছে। এখনকার দিনে শক্তির মাতৃরূপ উপেক্ষিত হইতেছে, পাশ্চাত্ত্য প্ৰভাবে ইহার শ্রেয়োভাবের উপর হইতে লোকের দৃষ্টি অপসারিত হইয়া শক্তি রঞ্জিনী বা রমণী-মূৰ্ত্তিতে তরুণ দিগকে আকর্ষণ করিতেছেন। এই পথ ভয় ও বিস্ত্ৰ-সন্ধুল। যাহা হউক এই প্ৰসঙ্গটির আলোচনা এখানে নিম্প্রয়োজন । বিষ্ঠাসাগর মাতৃপূজক ছিলেন ; আশুতোষও তাহার জননীর চিরপূজ্য মূৰ্ত্তি মনে Yrb