পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&bペり আশুতোষ-স্মৃতিকথা ব্যক্তিই তথায় উপস্থিত ছিলেন। আমার প্রবন্ধটী একটু দীর্ঘ হইয়াছিল, অথচ স্তার আশুতোয্যের সেদিন সন্ধ্যায় আরও কয়েকটি স্থানে যাইবার কথা ছিল, প্ৰবন্ধটি যখন অৰ্দ্ধেক পড়িয়াছি, তখন ঢাকা কলেজের সংস্কৃত-অধ্যাপক আমাকে বলিলেন-“প্রবন্ধটি তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলুন, ওর অনেক কাজ আছে।” আমি স্যার আশুতোষার দিকে তাকাইলাম, দেখিলাম তাহার মুখে এক অপূর্ব হাসি ফুটিয়া উঠিয়াছে, তিনি হাসিতে হাসিতে বলিলেন “তুমি কারু কথা শুনো না, পড়ে যাও।” আর কেহ একটী কথা বলিলেন না। আমি মহা উৎসাহে, মহা গৌরবের সহিত প্ৰবন্ধটি পড়িয়া শেষ করলাম। উপংহারে তিনি আমার ন্যায় অভাজনকে যেরূপ ভাষায় উৎসাহিত করিয়াছিলেন, সেরূপ উৎসাহ আমি জীবনে কাহার ও নিকট কোন দিন পাই নাই। সেদিন তিনি জলদমন্দ্ৰে বলিয়াছিলেন-“বন্ধুগণ ! আমি বাঙ্গালা ভাষাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ আসনে স্থান দিব, যদি তা’ না পারি, তাহা হইলে আর কোন দিন পদ্মাপারে আসিয়া আপনাদিগকে মুখ দেখাইব না।” হায়! মহাত্মা, তুমি তোমার পণ রক্ষা করিয়াও ত আর পদ্মা-পারে আসিলে না ! তুমি আবার আসিবে বলিয়াছিলে, কই আর তো আসিলে না ! শিক্ষা-শিক্ষা—শিক্ষাই ছিল তাহার মূলমন্ত্র ! কেমন করিয়া আমাদের দেশের সৰ্ব্বত্র জ্ঞান-বিস্তার হয়, সুদূর পল্লীর নিভৃত কুটীরের দীন কৃষক ও শিক্ষা লাভ করে, ইহাই ছিল তাহার জীবনের একমাত্ৰ সাধনা। সৌভাগ্য-ক্ৰমে আমি তাহার একটু পরিচয় পাইয়াছিলাম। র্তাহাকে ঐ সময়ে ঢাকার শ্ৰীযুক্ত নরেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী জমিদার মহাশয়ের উদ্যান-বাটীতে অভিনন্দিত করিবার ব্যবস্থা হইয়াছিল, বাগানের একদিকে আমি নীরবে: দাড়াইয়া আছি, এমন সময়ে কাহার স্নেহস্পর্শে আমি চমকিয়া উঠিলাম ! ফিরিয়া চাহিয়া দেখি স্যার আশুতোষ । তিনি আমার কঁধে হাত-খানা দিয়া স্বৰ্গীয় চন্দ্ৰকুমার দত্তকে দেখাইয়। বলিলেন- “ইনি কে হে ?” আমি বলিলাম—“জগন্নাথ কলেজের সেক্রেটারী চন্দ্ৰকুমারবাবু।” ‘বটে’ ! এই কথা বলিয়াই আমার কঁধে হাতখানা রাখিয়া চন্দ্ৰকুমারবাবুকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন- “কেমন আছেন চন্দ্ৰকুমারবাবু! কলেজের খবর কি ?” চন্দ্ৰকুমারবাবু বলিলেন—“আপনি পাশটা একটু কমিয়ে না দিলে যে আর পারি না ! কলেজে স্থান নেই, তবু ছেলেদের ভিত্তি করতেই হবে -কি ব্যবস্থা করা যায় বলুনত ? পাশ ना कभाल उ उांश ब्रश्F| cनश् ।।” পলকমধ্যে স্যার আশুতোষের মুখমণ্ডল গভীর হইল, তিনি বলিলেন—“দশটা কলেজ করুন না! আমি চাই দেশে শিক্ষা ছড়িয়ে পড়কি, ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাশ করেনি, বাঙ্গালা দেশে যেন কেউ না থাকে, আমাদের দেশের ঘরে-ঘরে, পল্লীতে-পল্লীতে শিক্ষা বিস্তার করতে হবে।” চন্দ্ৰকুমারবাবু নীরব রহিলেন । * * * *