পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/১৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিশিষ্ট २b-१ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুইটী শ্রেষ্ঠ জাতির মিলনের কথা আজ সর্বত্র ধ্বনিত ইয়া উঠিয়াছে। ভারত-জননীর এই দুই বাহু মিলন দ্বারা পূর্ণ শক্তি লাভ করিয়া জাতীয় জীবনে প্ৰাণ সঞ্চার করে এ প্রচেষ্টা চলিতেছে। আশুতোষের সূক্ষ্ম দৃষ্টি সেদিকে ও বহু পূৰ্ব্ব ইতেই নিবদ্ধ ছিল । রাজনৈতিক ক্ষেত্রের পাদপীঠে দাড়াইয়া উচ্ছাসপূর্ণ বাক্যচ্ছটিায় কবিতালির উন্মাদনায় তিনি কোনদিন ব্যাকুল হন নাই, অথচ তিনি নীবাবে এই মিলনের মুঠ পবিত্র তীর্থ সংগঠন করিতেছিলেন জ্ঞানের পবিত্র মন্দির-দ্বারে। সাহিত্য দ্বারাই রাজনীতির সৃষ্টি হয়। রাজনীতির মিলন চিরদিনই সাহিত্যের দ্বার। প্ৰতোক দেশেই সুসম্পন্ন হইয়াছে। বৈষ্ণব সাহিত্য আলোচনা করিলে আমরা দেখিতে পৃষ্টি যে, বহু মুসলমানও বৈষ্ণব কবি ছিলেন। তাহারা বিরাহিণী রাধার বিরহ-সঙ্গীতের করুণ মূৰ্ছিনার ভিতর দিয়া মিলনের যে আহবান-বাণী প্রচার করিয়াছিলেন, তাহার ফলে সে যুগে হিন্দু ও মুসলমান পরস্পরে আপনার জন্য হইয়া পড়িয়াছিলেন। প্ৰত্যেকে নিজ নিজ - পাশ্মর মধ্যে নিরত রহিয়াও ভেদ-বুদ্ধিকে দূরে রাখিয়া শান্তিতে বাস করিতেন। মুসলমান কবিগণ যেমন পণ্ডিতদিগকে হিন্দুর আদরণীয় গ্ৰন্থ মহাভারতাদি-অনুবাদে উৎসাহিত করিয়াছিলেন, রাজপুরুষেরাও তেমনি অর্থ সাহায্য করিয়াছিলেন । হিন্দুগণও সে যুগে পাসী-সাহিত্য আলোচনা করিয়া উভয়ে উভয়কে আলিঙ্গন করিতেন। মিলনের বীণা এই দুই সাহিত্যের মধ্য দিয়াই রাজনৈতিক ভেদ-বুদ্ধি, কলহ ও অশান্তি দূর করিয়াছিল। আশুতোস ও সেই ভাবে মিলনের পুণ্যতীর্থ গড়িতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। এই মহৎ উদ্দেশ্য বুকে লইয়াই তিনি বিগত কয়েক বৎসর যাবৎ সুপণ্ডিত মুসলমান মৌলভী নিয়োগ করিয়া উর্দু, আরবী ও পাসী সাহিত্যের ধৰ্ম্ম, বাণিজ্য, রাজনীতি ও উপাখ্যান-গ্ৰন্থসমূহের অনুবাদ করাইতে আরম্ভ করিয়াছিলেন । এই দুই জাতি পরস্পরের জাতীয়ত, ধৰ্ম্মনীতি, সমাজনীতি প্ৰভৃতি জ্ঞাত হইলে ভেদবুদ্ধি আপনা হইতেই দূর হইবে, "%২ আমরা প্ৰতিবেশী হইয়াও যে কেহ কাহাকেও জানি না । তাইত এত অশান্তি ও *শিশু। এইরূপ কাৰ্য্য সম্পাদন করিতে বহু অর্থের প্রয়োজন। তঁহাকে একবার জিজ্ঞাসা **৷ ইহঁয়াছিল-“ আপনি এত অর্থ কিরূপে সংগ্ৰহ করিবেন ??? আশুতোষ হাসিয়া ৰাণী ছিলেন “সে ভার আমায় দিতে পারেন। আমি ভিক্ষা করে হউক, ধার করে হউক, চুরি করে হউক, যে ভাবেই হউক টাকার যোগাড় করব।” প্ৰশ্নকারী নীরব রহিলেন । গুণীর আদর তাহার ন্যায় কেহই করিতে জানিতেন কি না জানি না । তিনি *ৰাবাস্থ্যালয়ে এমন অনেক পণ্ডিত ব্যক্তিকে নিযুক্ত করিয়াছেন, যাহারা আপনাদের চেষ্টা * উষ্ঠাগে জ্ঞানার্জন করিয়া খ্যাতিলাভ করিয়াছেন। কেহ যদি তাঁহাদের নিয়োগ-সম্বন্ধে *ান প্রশ্ন করিতেন,-“ইহারা ত কোন পরীক্ষায় পাশ করেন নি ?”, স্যার আশুতোষ **স্থা বলিতেন—“এরা নিজেরাই নিজেদের ডিগ্ৰী নিয়েছেন-এখন এদের অপরকে