পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/২৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


( so মাৎস্য ন্যায়, ও পাল বংশের ইতিহাস বর্ণিত হইয়াছে। নবম অধ্যায়ে বাঙ্গলার গৌরব, তাহার গৌড়ীয় সভ্যতার ও জ্ঞানের উৎকর্ষতা প্ৰতিপন্ন হইয়াছে। জয়সেন বিশ্বাসের ‘বৈদ্যাকুল পঞ্জিকা’, চায়ু সেনের ইতিহাস ক্ষেমেন্দ্ৰ, ইন্দ্ৰদত্ত ভট্টাঘাতি, রাজমালা, কেদার মিশ্র দর্ভপাণী আদি কবি গুণিগণের সাধনার সম্পূর্ণ পরিচয় প্রদান করিয়াছেন। বৌদ্ধ সভ্যতার প্রভাব ও ধ্বংস ও দীপঙ্করের খ্যাতি বর্ণিত হইয়াছে। এই অধ্যায়ে গৌড়ীয় সাহিত্যের অভু্যদয় ও জয়দেবের কাব্য-প্রতিভার বর্ণনা আছে। দশম অধ্যায়ে তিব্বতের ও পার্শ্ববৰ্ত্তী প্ৰতীচা দেশসমূহে বাঙ্গালীর প্রভাব বিস্তারের কথা বর্ণিত আছে। বাঙ্গালী কৃষ্টির বৰ্ত্তিকাবাহক দীপঙ্কর, যক্ষ, শান্ত রক্ষিত, পদ্মনাভি, কমল শীলা আদি বৌদ্ধ প্রচারকদের কৃতিত্ব প্ৰকাশ হইয়াছে। ঐ অধ্যায়ে সহজিয়া সাহিত্য ও সমাজে তান্ত্রিক ভৈরবী সাধনার, নেড়ানোড়ীর অবাধ বিবাহ-পদ্ধতির সম্যক বৰ্ণনা আছে। একাদশ অধ্যায় বাঙ্গলার নিজস্ব গৌরব সাহিত্য, কাব্য, দর্শন, শিল্প সাধনার সম্যক পরিচয় লিপিবদ্ধ আছে। নাগসেন, মণীন্দ্ৰ চন্দ্ৰ, গোমিন আদি মনীষীগণের সময় হইতে নবদ্বীপে বিদ্যাচৰ্চা, নব্য ন্যায়ের খ্যাতি-প্ৰতিপত্তি পৰ্যন্ত বাঙ্গালীর গৌরব ও অবদান বর্ণিত হইয়াছে। কাণ শিরোমণি, বাসুদেব সার্বভৌমের কথা এবং দুর্ঘাতাবৃত্তি, আর্যসপ্তসতি হরিভক্তিবিলাশ আদি জগৎ বিখ্যাত গ্রন্থের পরিচয়, কালুক ভট্টের বিবরণ, নানা গীতি কথার সন্ধান এই অধ্যায়েই দেখিতে পাওয়া যায়। দ্বাদশ অধ্যায়ে বাঙ্গলার শিল্প-সাধনার উন্নতি ও পরিচয় গ্ৰন্থকার অতি সুনিপুণভাবে প্ৰদান করিয়াছেন। বঙ্গ-রমণীদের কলা-বিদ্যা, তাহদের সৌন্দৰ্য্যপ্রীতি, নৃত্য-প্রিয়তা, কঁথা বুনন ও আলপনার কৃতিত্ব প্ৰকাশিত হইয়াছে।। ৪৩০ ও ৪৩৩ খ পৃষ্ঠার নানা রঙ্গের বিচিত্র চিত্র তাহার প্ৰমাণ। ৪১৮গ পৃষ্ঠায় মা ও স্ত্ৰৈণ পুত্রের নিদর্শন অতি মনোরম।। ৪১৯গ চিত্রে বঙ্গরমণীদের তখনকার নৃত্যভঙ্গিমায় গমন-পদ্ধতি প্ৰকাশিত হইয়াছে। এই সব চিত্র-পরিচয় পরবত্তী সংখ্যায় বিশদভাবে চিত্রান্নুলিপি প্ৰদান করিয়া প্ৰকাশিত হইবে। " ত্ৰয়োদশ অধ্যায়ে সেন রাজাদের শক্তি ও বাঙ্গালী সমাজের সম্পূর্ণ ংস্কারের বিষয় বিশদভাবে আলোচিত হইয়াছে। বল্লাল সেনের প্রতিপত্তি