পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বংশ-পরিচয় Σ, η { তিনি গণিতে কৃতবিদ্য ছিলেন এবং দুই-একটি পূৰ্ত্ত-বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ; এই সূত্রে তিনি পূৰ্ত্ত-বিভাগে। কঁসাই নদীর বঁাধের তত্ত্বাবধায়কের কাজ পাইলেন। ইহার পর ক্ৰমে সৌভাগ্য-লক্ষ্মী তাহার প্রতি মুখ ফিরাইয়া চাহিলেন। কাৰ্য্যদক্ষতা, বিপদে উপেক্ষা, অধ্যবসায় ও সাধুতা-গুণে র্তাহার ক্ৰমেই পদোন্নতি হইতে লাগিল। মাঝে মাঝে উত্তর-পশ্চিমের অতি দুৰ্গম স্থানে কাজ করিতে যাইয় তাহার স্বাস্থ্য-ভঙ্গ হইয়াছিল এবং তিনি কাজ ছাড়িয়া চলিয়া আসিতে বাধ্য হন। কিন্তু তাহার কাৰ্য্যের মূল্য র্যাহারা জানিতেন, সেই কর্তৃপক্ষ তঁহাকে পুনরায় কাজ গ্ৰহণ করিতে সম্মত করাইয়াছিলেন। চিফ ইঞ্জিনিয়ার কর্ণেল ফ্রেজার সাহেব এক প্ৰকাশ্য সভায় ইহার কাৰ্য্যের বিশেষ সুখ্যাতি করেন এবং কিছুদিনের জন্য তিনি বস্তি ও বারাণসী জেলায় একজিকিউটিভূ ইঞ্জিনিয়ারের পদ প্ৰাপ্ত হন। তৎপরে গাজিপুরের ডিষ্টিকটু ইঞ্জিনিয়ার হইয়া ৭ বৎসর কাল ঐ পদে প্ৰতিষ্ঠিত ছিলেন। র্তাহার জীবনচরিত-লেখক মহেন্দ্ৰনাথ বিদ্যানিধি লিখিয়াছেন-“তৎকালে পশ্চিমোত্তর প্রদেশে ইহার ন্যায় উচ্চপদস্থ বাঙ্গালী কৰ্ম্মচারী সাবডিনেট গ্রেডে কেহই ছিলেন না। সাবর্ডিনেট হইয়াও ইনিই প্রথম ইঞ্জিনিয়ারের পদে নিযুক্ত হন। ১৮৮৬ খৃষ্টাব্দে তাহাকে বহুমূত্র রোগের জন্য ৫৪ বৎসর বয়সে পেন্সন লইতে হইয়াছিল।” ইহার দীর্ঘকাল পরে ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে ইনি পরলোক গমন করেন। দুৰ্গাপ্ৰসাদ পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়গণের অভাবে শিশু ভ্ৰাতাদের একমাত্র আশ্রয়-স্থল হইয়া বহুকষ্টে তাহাদিগকে লালন-পালন করিয়াছিলেন। পক্ষী যেমন স্বীয় পক্ষ-পুটি ক্ষুদ্র শাবকদিগকে আবৃত করিয়া রৌদ্র-বৃষ্টি হইতে তাহাদিগকে রক্ষা করে, তিনিও সেই ভাবে বালক হরিপ্ৰসাদ, গঙ্গাপ্ৰসাদ এবং রাধিকাপ্ৰসাদকে সেই দুদিনে দুর্ভাগ্যের কবল হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। যখন কলিকাতায় আটটি টাকা বৃত্তি পাইতেন, তখন তিনটি টাকায় নিজের ব্যয় চালাইয়া তিনি পাচটি টাকা ভ্রাতাদের জন্য জিরেটে পাঠাইয়া দিতেন । যখন বলাগড়ে যাইয়া সারাদিন লেখাপড়া করিতেন, তখন তঁাহার মন পড়িয়া থাকিত জিরেটে তাহার শিশু ভ্ৰাতাদের কচি মুখগুলি দেখিবার আশায় । র্তাঞ্ছার জীবন-চরিত্যকার লিখিয়াছেন- “সারাদিন ভিন্ন গ্রামে থাকিতেন। বলিয়া কনিষ্ঠ রাধিকাপ্ৰসাদের জন্য তিনি বড় ব্যস্ত হইতেন। পাঠ সাঙ্গ করিয়া বাড়ী \O