পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বংশ-পরিচয় Σο কাণ্ড করিয়াছিলেন বলিয়া নূতন পাশ্চাত্য আলোকে আলোকিত ব্যক্তিগণ ধারণা করিয়াছিলেন। পাশ্চাত্য দেশবাসীদিগের পক্ষে ইহা নূতন ও আশ্চৰ্য্য কাণ্ডই বটে, কিন্তু এইরূপ কাৰ্য সেকালের সচরাচর আচরিত ঘটনা। চিত্তরঞ্জন দাশ মহাশয় সেদিন এইরূপ পিতৃ-ঋণ পরিশোধ করিয়াছিলেন। কিন্তু যখন দুৰ্গাপ্ৰসাদ এইভাবে তাহার পিতৃঋণ পরিশোধ করেন, তখন তিনি ভাবেন নাই যে, উহা কোন বিস্ময়কর কােণ্ড। পিতৃঋণ-পরিশোধের যে কোন একটা নির্দিষ্ট সময়ের সীমা আছে এবং তাহা অতিক্রান্ত হইলে সেই ঋণের দায় হইতে অনায়াসে অব্যাহতি লাভ করা যায়, তাহা সেকালের লোকেরা বিশ্বাস করিতেন না। আমাদের সমাজ-জীবনের বড় বড় আদর্শগুলি পরানুকরণে আমরা একান্ত ক্ষুন্ন করিয়া ফেলিয়াছি, তাহাতে সমাজ সেই সমস্ত মহৎগুণবিচু্যত হইয়া অস্থি-মজ্জাহীন ও দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। অথচ পাশ্চাত্য জাতিদের রাজসিক রাষ্ট্র-জীবন যেরূপ জাগ্রত ও সবল, আমরা তাহ পাই নাই। আমাদের সমাজিক জীবনে যে সকল গুণ স্বচ্ছতোয়া নদীর প্রবাহের মত স্বৰ্গকে প্ৰতিবিম্বিত করিয়া দেখাইত, তাহা আমরা শুধু হারাই নাই, হারাইয়া বাহাদুরী দেখাইতেছি। এ জাতির এখন আর কি গুণ রহিল, যাহাতে ভবিষ্যতে ইহার অস্তিত্ব সম্বন্ধে আমরা আস্থা-পরায়ণ হইতে পারি। ১৮৬৪ খৃষ্টাব্দ হইতে দুর্গাপ্রসাদ যে পুস্তকালয় স্থাপন করেন, তাহা উত্তরোত্তর উন্নতিলাভ করিয়াছে। তঁহার পিতা বিশ্বনাথের লিখিত 'ভগবানের লক্ষ নাম’ তিনি বহুদিন যত্ন করিয়া রাখিয়াছিলেন ; সেই হস্তাক্ষর-যুক্ত বিত্র নামাবলী তৎপুত্র সতীশবাবুর কাছে এখন নাই। দুৰ্গা প্ৰসাদের কনিষ্ঠ হরিপ্রসাদ ততটা উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন না। ***সীদের কনিষ্ঠ কিন্তু ইংরাজী ভাল না জানিলেও তিনি বাঙ্গলা গদ্য ও পদ্যে হরিপ্রসাদ-জন্ম ܫ ১৮৩৪ খৃঃ অনেক বই লিখিয়াছিলেন। তঁহার রচিত ‘বিচিত্ৰ বঙ্গচিত্র’ ১৮৮৭ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত হয়, উহা তঁহার জ্যেষ্ঠভ্রাতা দুর্গাপ্ৰসাদের নামে উৎসর্গ করা হইয়াছিল। উৎসর্গ-পত্রে তিনি লিখিয়াছিলেন “বঙ্গসমাজের আভ্যন্তরিক কুসংস্কার ও দুনীতি দেখিয়া আপনি সর্বদাই আক্ষেপ করিয়া থাকেন এবং যাহাতে অবৈধ দেশাচারগুলির মূলোৎপাটন