পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R8 আশুতোষ-স্মৃতিকথা সুহৃদ প্রসন্নকুমার বসু, যিনি উত্তরকালে কৃষ্ণনগর আদালতের সর্বশ্রেষ্ঠ উকিল হইয়াছিলেন, তিনিও প্রথম জীবনে ভবানীপুরে অবস্থানকালে গঙ্গাপ্ৰসাদকে এই অঞ্চলটাই তাহার কৰ্ম্মক্ষেত্র করিতে পরামর্শ দেন। এই সকল কারণে কলেজ নি ফ্রান্ত কৰ্ম্মবীর গঙ্গাপ্ৰসাদ ভবানীপুরে থাকিয়া ব্যবসায় চালাইতে সঙ্কল্প করেন । t যদিও গঙ্গাপ্ৰসাদের শিক্ষা-জীবনের সুখ্যাতি তঁাহার দিকে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল, তথাপি কৰ্ম্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার পর তাহাকে প্রবল প্রতিদ্বন্দী একটি প্রবল প্ৰতিদ্বন্দ্বীর সম্মুখীন হইতে হইয়াছিল। ইহার নাম গোপালচন্দ্র রায়। ইনি খৃষ্টান ছিলেন এবং বিলাত হইতে এমডি উপাধি পাইয়া ভবানীপুরে অতি লব্ধপ্ৰতিষ্ঠ চিকিৎসক হইয়াছিলেন। তৎপ্রণীত “ম্যালেরিয়া-জত্বর’-নামক একখানি পুস্তকের বহুল প্রচার হইয়াছিল। গঙ্গাপ্ৰসাদকে এই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে কাৰ্য্যক্ষেত্রে যুঝিয়া নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করিতে হইয়াছিল। গঙ্গাপ্ৰসাদের অধ্যবসায় ও দৃঢ় সঙ্কল্পের তুলনা ছিল না ; ধীরে ধীরে গোপাল রায়ের যশঃ-চন্দ্ৰিক দিশ্বলয়ে ক্ষীয়মান হইল, এবং তরুণ সূৰ্য্যের ন্যায় ডাক্তার গঙ্গা প্ৰসাদের প্রতিভা-প্ৰভা গগন-মণ্ডল আলোকিত করিল। গঙ্গাপ্ৰসাদের একটি অসাধারণ গুণ আশুতোষ পাইয়াছিলেন, তাহা র্তাহার সর্বতোমুখী মনস্বিতা । আমরা অনেক বড় ডাক্তারের কথা অবগত আছি, কিন্তু তঁাহারা সকলেই তঁহাদের ব্যবসায়ের খ্যাতির জন্য পৰিচিত, কিন্তু সংসারের বিশাল কৰ্ম্মক্ষেত্রের সর্ব বিভাগেই গল্প প্ৰসাদের সম-শক্তি ও সম-অনুরাগ পরিলিক্ষিত হইয়াছিল। এই দূর-প্রসারিত, বিচিত্ৰ প্ৰতিভা লইয়া জীবনে কোন নির্দিষ্ট গতিপথ নিৰ্ণয় করিয়া লইতে গঙ্গাপ্ৰসাদের একটু চিন্তা করিতে হইয়াছিল। তিনি সর্বপ্রকার গ্রন্থের একজন অক্লান্ত পাঠক ছিলেন, হয়ত অধ্যাপক হইলেও তিনি যশস্বী হইতে পারিতেন। ব্যবহারজীবী হওয়ার জন্য তো তিনি রীতিমত মনটিও সাহেবের নিকট প্রেসিডেন্সী কলেজে ছয়মাস কাল আইন পড়িয়াছিলেন। ইংরাজী কবিতা তাহার এত মুখস্থ ছিল যে, তিনি তাহার প্রিয় পুত্রকে তাহ আবৃত্তি করিয়া শিখাইতেন এবং প্রাতঃভ্রমণ-কালে তঁহাকে বড় বড় মহাপুরুষের