পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বংশ-পরিচয় R চরিত্যাখ্যান ও কীৰ্ত্তি-কথা শুনাইয়া সেই আদর্শে জীবন গঠনের অনুপ্ৰাণনা প্ৰদান করিতেন। গঙ্গাপ্ৰসাদ তৎকালীন বঙ্গীয় সাহিত্য-সেবকদের মধ্যে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করিয়াছিলেন। তাহার সময়ে বিশিষ্ট স্থান বিশ্বম্ভর পাইন “জগন্নাথ মঙ্গল’, ‘বৃন্দাবন-প্ৰত্যুপায়’, ‘প্ৰেমসম্পূট’, ‘ভক্তরত্নমালা’, ‘কন্দৰ্প-কৌমুদী’, ‘সঙ্গীত মাধব’ প্ৰভৃতি বহু পুস্তক বাঙ্গলা-ভাষায় রচনা করিয়া প্ৰসিদ্ধি লাভ করিয়াছিলেন । “বসন্ত-সেন”- প্ৰণেতা মধুসূদন বাচস্পতি, তৎকালের প্রধান ঐতিহাসিক নীলমণি বসাক, ‘এডুকেশন-গেজেটের’-প্রতিষ্ঠাতা বাবু প্যারীচরণ সরকার প্রভৃতি তৎকালপ্ৰসিদ্ধ বঙ্গ-ভাষার লেখকদের সঙ্গে গঙ্গাপ্ৰসাদের স্থান এক পংক্তিতে ছিল । তিনি যে সকল পুস্তক প্রণয়ন করিয়াছিলেন, তাহার তালিকা পরে দিতেছি। তিনি রামায়ণের অনেকাংশ বাঙ্গলা পদ্যে রচনা করিয়াছিলেন। সুতরাং দেখা যাইতেছে ইহার প্রতিভা বিচিত্রমুখী ছিল । তিনি যে ক্ষেত্রে যাইতেন, সেই ক্ষেত্রেই হয়ত সোনার ফসল-লাভ হইত। ডাক্তারী-ব্যবসায়ে তিনি ধন্বন্তরীর যশঃ অর্জন করিয়া বঙ্গদেশে বিখ্যাত হইয়াছিলেন। কিন্তু এই চিকিৎসা-বিদ্যা তাহার পায়ে বেড়ি দিয়া তাহার বহুমুখী প্ৰতিভার গতিপথ একবারে বদ্ধ করিয়া রাখে নাই। শ্ৰীযুক্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাহার পিতা-সম্বন্ধেও এই বহুমুখী প্ৰতিভার উল্লেখ করিয়া তদবিষয়ক সন্দর্ভের মুখবন্ধ করিয়াছেন। তৎকালে মেডিক্যাল-কলেজে ইংরাজী ও বাঙ্গলা এই দুই বিভাগ ছিল, সুতরাং বাঙ্গলা-বিভাগের ছাত্রদের জন্য বাঙ্গলা-ভাষায় চিকিৎসা-শাস্ত্ৰ সঙ্কলন করিবার প্রয়োজন হইয়াছিল। গঙ্গাপ্ৰসাদের ‘মাতৃশিক্ষা” একখানি মূল্যবান গ্ৰন্থ ; উহা চিকিৎসা-বিষয়ক খুটি-নাটি ও ঔষধ প্রভৃতির কথা সংবলিত, সাধারণের পাঠোপযোগী একখানি চিকিৎসা-পুস্তক। বাঙ্গলার জননীদের নিকট উহার মূল্য এখনও হ্রাসপ্রাপ্ত হয় নাই। বিদ্যানিধি মহাশয় লিখিয়াছেন, “বঙ্গের মাতৃগণ উপন্যাস ও গল্প না পড়িয়া ‘মাতৃশিক্ষা’র মত পুস্তক পড়িলে অনেক উপকার পাইতে পারেন।” গঙ্গাপ্ৰসাদ ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারী তাহার বিখ্যাত ‘প্রাকটিস অব মেডিসিনে’র প্রথম খণ্ড ও ঐ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে উহার দ্বিতীয় খণ্ড প্ৰকাশ করেন। তিনি তঁাহার 8