পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ቅub” আশুতোষ-স্মৃতিকথা বিলাতে পাঠাইয়া শিক্ষা-পরিসমাপ্তির ব্যবস্থা করিতে প্ৰস্তুত এবং যৌতুক বাবদ নগদ ৩০,০০০২ টাকা দিতে ইচ্ছক ছিলেন * । কিন্তু এই প্রস্তাব উপেক্ষা করিয়া তিনি কৃষ্ণনগরের পণ্ডিত রামনারায়ণ ভট্টাচাৰ্য্যের মধ্যম কন্যা শ্ৰীমতী যোগমায়া দেবীর সঙ্গে আশুতোষের বিবাহ স্থির করিলেন। শ্ৰীমতী যোগমায়া দেবী লক্ষ্মী-স্বরূপিণী। আমার এক পুত্রবধূ তাহার সহিত মধুপুরে বিশেষ পরিচিত হইয়াছিলেন ; তিনি এ বৎসরও ভবানীপুর যাইয় তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া আসিয়া বলিলেন-“র্তাহার সেই অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্য আর নাই। কি প্রতিমা দেখিয়াছিলাম, আর কিই বা দেখিয়া আসিলাম। কঠোর বৈধব্য ও তপশ্চরণ-হেতু তাহার সে বর্ণ মলিন হইয়া গিয়াছে ; দেখিয়া চক্ষে জল আসিল ।” “আশুতোষের ছাত্ৰ জীবন’-লেখক অতুলবাবু লিখিয়াছেন—“যোগমায়া দেবীর পিতা অবস্থাপন্ন ছিলেন না। বিবাহের পর যে সকল তত্ত্ব আসিত, পাছে তাহার স্বল্পতা লইয়া কথাবাৰ্ত্ত হয়, এজন্য গঙ্গাপ্ৰসাদ সেই সকল তত্ত্ব দেখিয়া আনন্দ প্ৰকাশ করিতেন এবং বলিতেন-‘আহা তাহারা এমন দেবী দিয়াছে, - তার বেশী তাদের আছেই বা কি, আর দিবেই বা কি ?” ” পিতামাতা ও বংশের অনেক পুণ্য না থাকিলে আশুতোষের মত পুত্ৰ জন্মে না ; অনেক তপস্যায় ও বহু পুণ্যের জোরে ডাঃ গঙ্গাপ্রসাদ আশুতোষ হেন পুত্ৰ পাইয়াছিলেন। পুত্রকে তিনি অপরাপর পিতার ন্যায় শুধু বাৎসল্যের সহিত লালন-পালন করিয়া কৰ্ত্তব্য শেষ হইল, মনে করেন। নাই। নিপুণ মালী যেমন উৎকৃষ্ট ফুলের গাছটিকে রোপন পূর্বক ক্ষো করিয়া তাহার কুসুম-উদগমের সময় হইতে যত্ন ও অধ্যবসায়ের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে, গঙ্গাপ্রসাদও তদ্রুপ শিশু আশুতোষের প্রতিভা প্ৰতি মুহূৰ্ত্তে লক্ষ্য করিয়া তাহার বিকাশের সহায়তা করিয়াছিলেন। বঙ্গদেশে স্নেহশীল পিতার অভাব নাই, কিন্তু সন্তানের প্রতি পিতার কৰ্ত্তব্য-বোধ এবং তাহার চরিত্রগঠনের দায়িত্ব-জ্ঞান সকল পিতার থাকে না। আশুতোষ অবশ্যই প্ৰকৃতিদত্ত প্ৰতিভা লইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন, কিন্তু যেরূপ খনির স্বভাবজাত

  • মহেন্দ্র বিস্তানিধিকৃত "ভরদ্বাজ গোত্র’-৪৮ পূঃ