পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 D আশুতোষ-স্মৃতিকথা এবং নূতন ইউনিভারসিটিবিল সঙ্কলনের সময় আশুতােষের বিশেষ সহায়তা গ্ৰহণ করিতেছেন, ইউনিভারসিটি কমিশনের সভাপতি, শিক্ষা-বিষয়ে পরম অভিজ্ঞ স্যাডলার সাহেব আশুতোষের দ্বারা পরিচালিত হইতেছেন এবং হার্টগের ন্যায় বিশিষ্ট সভাগণ তাহাকে গুরুর মত শ্রদ্ধা করিতেছেন। নিশ্চয়ই ইহারা আশুতোষের উপাধির বহর দেখিয়া তাহাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দান করেন নাই। উপাধি ও বৃত্তির বলে কেহ বাহবা পাইতে পারেন, কিন্তু সৰ্ব্ব বিভাগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ কি গুণে তাহার নিকট মাথা হেঁট করিয়াছিলেন ? আইনের অগাধ সমুদ্র-সদৃশ রাসবিহারী ঘোষ ও তারকনাথ পালিত আশুতোষকে শৈশব অবস্থায় স্নেহ করিতেন ; আশুতোষ তো ডাঃ রাসবিহারীর কাছে শিক্ষানবিসি করিয়াছিলেন। এই পুত্ৰ-প্ৰতিম, ক্ষণজন্ম পুরুষ বাৰ্দ্ধক্যে ইহাদিগকে পরিচালিত করিয়াছেন। তিনি তরুণ বয়সেই গণিত সম্বন্ধে নূতন আবিষ্কার করিয়া মিঃ গ্লেসায়ার ও মিঃ কেলি প্রভৃতি বিশ্ব-বিশ্রুত পণ্ডিতগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিলেন ; এই শাস্ত্রে তাহার অনেক প্ৰবন্ধ বিলাতের বড় বড় কাগজে প্ৰকাশিত হইয়াছিল, ইহার তরুণ বয়সের লেখা ‘কণিকাসেকশন” বহুদিন “ফাষ্ট আটস’-পরীক্ষার পাঠ্য ছিল । সুপ্ৰসিদ্ধ র্যাঙ্গলার ডাঃ আর, পি, পরাঞ্জপে তৎসম্বন্ধে লিখিয়াছিলেন-“যদি আশুতোষ গণিতের অধ্যয়নে ও গবেষণায় নিযুক্ত থাকিতেন, তবে নিশ্চয়ই তিনি জগতের গণিতশাস্ত্ৰবিৎ পণ্ডিতগণের প্রথম পংক্তিতে স্থান পাইতেন।” কিন্তু কোন এক বিশেষ বিভাগে সফলতা লাভ করিলেই যে এক দেশের সমস্ত সুধীসমাজ তাহাকে তঁহাদের নেতা বলিয়া আবিসম্বাদিত ভাবে তদীয় শ্রেষ্ঠত্ব মানিয়া লইবেন, ইহা বিবেচনা করা ভুল। তবে তাহার এমন কি গুণ ছিল, যাহাতে র্তাহার সান্নিধ্যে আসিলে সকলকেই মাথা নত করিতে হইত ? ভগবানই তাহার ললাটে শ্রেষ্ঠত্বের তিলক পরাইয়া তাঁহাকে কৰ্ম্মক্ষেত্রে পঠাইয়াছিলেন ; ভগবদত্ত এই তিলক,-এই জয়শ্ৰী বুঝিতে কাহারও তিলাৰ্দ্ধ বিলম্ব হয় নাই। তিনি যে সকল স্বর্ণপদক, বৃত্তি, উপাধি প্ৰভৃতি পাইয়াছিলেন, তাহা তাহাকে পরিচিত করিয়া দেয় নাই । তিনি ছিলেন অসাধারণ গুণী,