পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 R আশুতোষ-স্মৃতিকথা স্মৃতি অধ্যয়ন করিয়াছিলেন ; ইংরাজীতে মিণ্টনের কাব্য, বার্কের বক্ততা, বহু কাব্য এবং বহু ভাল ভাল পুস্তক র্তাহার একরূপ কণ্ঠস্থ ছিল ; তিনি আইনের মহাপণ্ডিত ছিলেন ; কিন্তু এ সকল সে গুণ নহে, যাহার জন্য তিনি দেশপ্ৰসিদ্ধ হইয়া কৰ্ম্মজগতে সর্বোচ্চ আসন গ্ৰহণ করিতে পারিয়াছিলেন । ছাচে সন্দেশ তৈয়ারি করিয়া কেহ কেহ শিক্ষানবিসি করে, তারপর সন্দেশের দোকান খোলে। তিনি সেইরূপ বিবিধ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করিয়াছিলেন, সেই সেই বিষয় ফেরি করিয়া হাটে বিক্রয় করিবার জন্য নহে, পরস্তু তাহ গৌণভাবে অবলম্বন করিয়া এরূপ একটা মহা-বিপণি খুলিবেন, যাহাতে গৌড়জন নিরবধি সুধার আস্বাদ পাইবে,-ইহাই ছিল তঁহার মুখ্য সঙ্কল্প। এই মহাবিপণি তৎকৃত ‘পোষ্টগ্রাজুয়েট-বিভাগ’ এবং সম্পূর্ণরূপে পরিবৰ্ত্তিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষানীতি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি মৌলিক গবেষণার একটা প্ৰধান কেন্দ্রে পরিণত করিবেন, ইহাই ছিল তাহার মুখ্য উদ্দেশ্য, এ সম্বন্ধে পরে বিস্তারিতভাবে লেখা হইবে । তিনি স্বয়ং কেন গণিতের গবেষণায় নিযুক্ত হইয়া জগতের মনীষিগণের মধ্যে একটা অদ্বিতীয় নাম কিনিলেন না,-এজন্য ‘হয়’ ‘হয়’ করিয়া অনুতাপ করিবার কারণ নাই, যেহেতু একটা দেশের সমস্ত লোকের শিক্ষা-সমস্যার সমাধান করিতে তিনি কাৰ্যাক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন এবং অসীম দেশানুরাগ তাহার স্বন্ধে যে কৰ্ত্তব্যের বোঝা চাপাইয়া দিয়াছিল, সেই গুরুতর কৰ্ত্তব্যের ভার লওয়ার উপযুক্ত আর দ্বিতীয় ব্যক্তি দেশে ছিলেন না। অতি তরুণ শিশু যেমন বয়োজোষ্ঠের হাত ধরিয়া নিশ্চিন্ত মনে পথে হাটে, সিনেটের প্রবীণ সদস্যেরাও সেই শিশুর মতই তাহাকে অবলম্বন করিয়াছিলেন। তঁহারা জানিতেন আশুতোষ তাহদের পরিচালক,-তাহার কণ্ঠে দোদুল্যমান স্বর্ণপদক এবং “সম্বুদ্ধাগম-চক্ৰবৰ্ত্তী’ প্রভৃতি উপাধির আড়ম্বর দেখিয়া নহে, পরন্তু তাহারা নিশ্চিতরূপে জানিতেন যে, ভগবান তাহাকে শিক্ষিত সমাজের নেতা করিয়াই সৃষ্টি করিয়াছিলেন, সে ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্য প্ৰতিষ্ঠান-প্ৰদত্ত উপাধি দ্বারা পাওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ তাহার উপর কখনও শাসন-ভার দিতেন, কখনও দিতেন না, কিন্তু তাহাকে সর্বময় শাসন-কৰ্ত্ত যে শাসন-দণ্ড দয়াছিলেন, তাহা কাড়িয়া লইবার শক্তি কাহারও ছিল না ।