পাতা:আশুতোষ স্মৃতিকথা -দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লক্ষ্যের পথে যাহারা জগতে বড় কাজ করিবেন, তাহারা প্ৰথম হইতেই পারিপাশ্বিক অবস্থা, তুচ্ছ। আশা-আকাজক্ষা ও ক্ষুদ্রতার উদ্ধে উঠিয়া ধীরে ধীরে স্বীয় ভবিষ্য ক্ষেত্রের জন্য তৈরি হ’ন। আমাদের সমাজে এখনকার সময়ের তো কথাই নাই, আশুবাবু যখন তরুণবয়স্ক ছিলেন, তখনও সরকারী চাকুরি পাওয়া শিক্ষিত যুবকদের একটা মুখ্য প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল। যখন ডিরেকটার ক্রফট সাহেব সদ্য কলেজ-নিফ্রান্ত যুবককে স্বয়ং আহবান করিয়া আনিয়া তাহাকে শিক্ষা-বিভাগে একটি ২৫০২ টাকা মাহিনী বেতনের স্থায়ী কাজ দিতে চাহিলেন, তখন আশুতোষের মত তরুণ যুবকের পক্ষে তাহা দুর্লভ সুবর্ণসুযোগ বলিয়াই গ্ৰহণ করা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আশুতোষ সাহেবদের সঙ্গে তাহার বেতনের প্রভেদমূলক বৈষম্য গায়ে সহিয়া লইতে পারিলেন না। বিচিত্র বর্ণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পক্ষীকেই স্বর্ণ-পিঞ্জরে আনিয়া আবদ্ধ করা যায়, গৰুড় পক্ষীকে কে পিঙ্কৰে কিন্তু গরুড় পক্ষীকে কে পিঞ্জরে পূরিবার কল্পনা করিতে পূরিবে ? পারে ? তিনি ক্ৰফট-সাহেবের নিকট কয়েকটি সর্ত চাহিলেন । তিনি কলিকাতায় থাকিয়া লেখাপড়ার অনুশীলন করিবেন,- “ অন্যত্ৰ যাইবেন না, অর্থাৎ তাহাকে স্থানান্তরিত করা হইবে না,-সাহে স্বদের গ্রেড এবং তদুপযোগী উচ্চ-হারে বেতন তঁহাকে দিতে হইবে। এইরূপ আরও দুই-একটি সর্তের উল্লেখ করিয়া বলিলেন যে, এই গুলি সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়া যদি সাহেব তাহাকে কাজ দিতে চাহেন, তবেই তিনি উহা গ্ৰহণ করিতে পারেন। ডাঃ গঙ্গপ্ৰসাদের অবস্থা ভাল ছিল ; কিন্তু তথাপি তাহা এত ভাল ছিল না যে, ভবিষ্যতের উন্নতির প্রচুর সম্ভাবনা-যুক্ত, প্রারম্ভে ২৫০২ টাকার বেতনের সরকারী কৰ্ম্ম তিনি অগ্ৰাহা করিতে পারেন। ক্রফট সাহেব বিস্মিত হইলেন,-এ ছেলেটির স্পৰ্দ্ধা কত ! শিক্ষা-বিভাগের আইন-কানুন বদলাইয়া তবে তাহাকে কাজ দিতে হইবে !! আশুতোষের এই সুস্পষ্ট উত্তরে